ফরিদপুর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, দ্রব্যমূল্য যাতে আর না বাড়ে, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট আছে। কমার্স মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আপনারা যারা গ্রাউন্ড লেভেলে আছেন, আপনাদের কোনো বিশেষ পরামর্শ থাকলে অবশ্যই দেবেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার বিভিন্ন দফতরপ্রধানদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, রমজান মাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনগণের মনে শান্তি রাখা, যাতে তারা সুন্দরভাবে রোজা পালন করতে পারে এবং ঈদ পালন করতে পারে।
তিনি বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—আমি আপনাদের সহকর্মী হিসেবে কাজ করতে চাই। আমি এখানে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বসিনি। আমরা যদি টিমওয়ার্ক করতে পারি, তাহলেই ফরিদপুর জেলাকে সুন্দর রাখতে পারব। আপনারা আমাকে সহকর্মী হিসেবে বিবেচনা করবেন। বেশিরভাগের কাছেই আমার ফোন নম্বর আছে। যেকোনো সমস্যা সরাসরি আমাকে জানাতে পারেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকে আমাদের সরকারের তৃতীয় দিন। যেদিন এই সরকার শপথ নিল, আল্লাহর রহমতে ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পরে, এত বছরের লড়াইয়ের পরে, এত মানুষ হারানোর পরে—আমাদের ফরিদপুর অঞ্চলেও আমরা বহু মানুষ হারিয়েছি—তারপর যে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হলো এবং নির্বাচনে যারা আমাদের সাহায্য করেছেন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকলেই—আপনারা দেখেছেন যে কত সুন্দরভাবে নিরপেক্ষভাবে জনগণ ভোট দিতে পেরেছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে একটি বিষয় দেখিয়ে দিয়েছেন। এই সরকার অনেক যুদ্ধের পরে, অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এসেছে। জনগণেরও অনেক আশা এই সরকারের ওপর। সুতরাং এটাকে হেলাফেলা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, বিশেষ করে মাদক নিয়ে ঘরে বসে কথা বললে হবে না। আমাদের কিছু স্ট্র্যাটেজিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যারা মাদক সেবন করে, তারা অনেক ক্ষেত্রে ভিকটিম। কিন্তু যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। শর্ট টার্মে অ্যাকশন দেখাতে হবে, পাশাপাশি লং টার্মে সামাজিক সচেতনতা চালিয়ে যেতে হবে।
ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা থেকে এই নির্বাচন হয়েছে। বহু আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে। যেখানে অনেক মানুষের জীবন গিয়েছে। এতো কিছু বিনিময়ে মানুষের চাওয়া ছিল যেখানে গণতন্ত্র ফিরে আসবে, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হবে, কল্যাণকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে। বেকারত্ব দূর হয়ে অর্থনৈতিক মুক্তি মিলবে। এই স্বপ্ন থেকেই দেশের মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপিকে বিজয়ী করেছে। আর এই সব কিছু পূরণে রাজনৈতিক সরকারের ইচ্ছার সঙ্গে জেলার সকল স্তরের কর্মকর্তারা সেই সেবাগুলো দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে আপনাদের মত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে। তাই বিগত দিনে কি হয়েছে? সেটা আর দেশবাসী দেখতে চাই না।
এ ছাড়াও জেলায় মাদক, দুর্ণীতি, স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা, যোগাযোগসহ নানা দফতরের কর্মকর্তারা তাদের সমস্যা নবাগত সাংসদ সদস্যদের কাছে তুলে ধরেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এ.এস.এম. আলী আহসান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহীদুজ্জামান খান, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা , সদস্যসচিব একে কিবরিয়া প্রমুখ।