Friday 20 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সড়কে চাঁদাবাজির বৈধতার অপচেষ্টায় উদ্বেগ ও নিন্দা টিআইবির

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:০৬

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ফাইল ছবি

ঢাকা: সড়কে চাঁদাবাজিকে সমঝোতার ভিত্তিতে লেনদেন হিসেবে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহণ ও যোগাযোগ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার যে অজুহাত খুঁজেছেন তাতে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

একইসঙ্গে, এ জাতীয় দুর্নীতিসহায়ক অপচেষ্টাকে অঙ্কুরে বিনষ্ট করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাদের নিজ দলের শুদ্ধিকরণে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে উদ্বেগ ও নিন্দা জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পরিবহণমন্ত্রী চাঁদাবাজির যে সংজ্ঞা দাঁড় করিয়েছেন, তা তিনিসহ মন্ত্রীপরিষদের প্রায় প্রতিটি সদস্য দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতিবিরোধী যে দৃঢ় অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন তার সম্পূর্ণ বিপরীত। ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনি ইশতিহার ও সরকার প্রধানের জাতীর উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণ, যেখানে কার্যকরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের অঙ্গীকার করা হয়েছে। তার মাত্র ৪৮ ঘণ্টাও অতিবাহিত না হতেই মন্ত্রীর পরিবহণ খাতের ক্যানসার চাঁদাবাজির সুরক্ষাপ্রয়াসী এ মন্তব্য খুবই হতাশাজনক। এর মাধ্যমে পরিবহণমন্ত্রী তার নিজ দলের নির্বাচনি ইশতিহারে প্রদত্ত অঙ্গীকার ও সরকার প্রধানের দুর্নীতিবিরোধী দৃঢ় অবস্থানকে বিব্রতকরভাবে অবমূল্যায়ণ করেছেন।

তিনি বলেন, তিনি যেভাবে সড়ক ও পরিবহণ খাতের বিদ্যমান চাঁদা সংস্কৃতিকে ইতিবাচকভাবে ব্যাখ্যাসহ পক্ষাবলম্বন ও সমর্থন করেছেন, তাতে স্পষ্টতই তিনি চাঁদাবাজির মতো একটি অনৈতিক ও যোগসাজশের দুর্নীতিকে বৈধতা চেষ্টা করছেন। যার সরাসরি ভুক্তভোগী এ দেশের পরিবহণ খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ, যাদের এ অবৈধতার বোঝা প্রত‍্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বইতে হয়। শুধু তাই নয়, মালিক ও শ্রমিক কল্যাণকে যেভাবে এখানে বৈধতার অজুহাত বা ঢাল হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন, তা শুধু বিভ্রান্তিকরই নয়, বরং এ খাতে বিরাজমান দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খল ও নৈরাজ্যপূর্ণ ব্যবস্থাকে সুরক্ষাসহ চলমান রাখার অপতৎপরতার শামিল।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, সড়কে চাঁদাবাজিকে সমঝোতার নামে গ্রহণযোগ্যতা দেওয়া হলে বিআরটিএ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, বিচার, পাসপোর্ট, ভূমি, প্রশাসন ইত্যাদি সেবার পাশাপাশি সরকারি ক্রয়, উন্নয়ন প্রকল্প, ব্যাংক, বিদ্যুতসহ অন্য সবখাতেও একই ত্বত্ত্বের ধারাবাহিক প্রয়োগ ও প্রসার কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে?- সেই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসবে।

‘নবগঠিত সরকার দুর্নীতি প্রতিরোধ ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণে তাদের নির্বাচনি ইশতেহারসহ বিভিন্ন বক্তৃতা বিবৃতিতে বারংবার যে ঘোষণা দিয়েছে, তা যদি ফাঁকা বুলি কিংবা শুধু জনতুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে না হয়ে থাকে, তাহলে অনতিবিলম্বে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পরিবহণমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করা এবং যথাযথপ্রক্রিয়ায় মন্ত্রীর দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, কর্তৃত্ববাদ পতনের পর দেশব্যাপী যেভাবে বহুমাত্রিক চাঁদাবাজি, দলবাজি, দখলবাজির হাতবদলের মহোৎসব হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মন্ত্রীর এ অবস্থান কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়।’

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ভুলে যাবার কথা নয় যে, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই ত্বত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে পতিত কর্তৃত্বপরায়ণ সরকারের সড়কমন্ত্রীও সড়কে চাঁদাবাজিকে বৈধতা দিতে উদ্যোগ নিয়েছিল। আত্মঘাতি বিবেচনায় টিআইবি যার জোরাল প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছিল। নবগঠিত সরকারও একইপথে হাঁটছে শঙ্কায় টিআইবি হতাশ।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আপনার প্রতি ইতোমধ্যে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার ওপর পরিপূর্ণ আস্থা নিশ্চিত করার জন‍্য, আপনার পরিকল্পনায় নিজ দলের নেতাকর্মীদের একাংশের আত্মঘাতী পথ রোধকল্পে দলীয় শুদ্ধিকরণ ও সংস্কারকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিন। অন‍্যথায় দেশবাসী হতাশ হবে। ফলে বিকল্পের খোলসে এমন শক্তি লাভবান হবে যাদের ভাবাদর্শ, দীক্ষা ও অভীষ্ট বায়ান্ন থেকে একাত্তর হয়ে চব্বিশ পর্যন্ত রক্তের বিনিময়ে লালিত বাংলাদেশের মৌলিক চেতনা ও আত্মপরিচয়ের সঙ্গে ভয়াবহ মাত্রায় সাংঘর্ষিক। প্রধানমন্ত্রী, সঠিক প্রাধান্য নির্ধারণের এখনই সময়।

বিজ্ঞাপন

মোহনপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৩২

আরো

সম্পর্কিত খবর