Friday 20 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জনমত জরিপ
৯২ শতাংশ নাগরিক সহিংসতায় জড়িত দল বা প্রার্থীকে ভোট দিতে চান না

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট
২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩১ | আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:১৭

যমুনা টেলিভিশন ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ আয়োজনে ‘ভোট ও ভোটারের নিরাপত্তা’ শীর্ষক সংলাপ। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতা নাগরিকদের আস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, নিরাপত্তাই এখন বাংলাদেশের নাগরিকদের শীর্ষ উদ্বেগ। জরিপ অনুযায়ী, ৯২ শতাংশ নাগরিক সহিংসতায় জড়িত দল বা প্রার্থীকে ভোট দিতে চান না। আর নির্বাচনকালীন সহিংসতাকেই ভোটার উপস্থিতি কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করছেন তারা।

এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) যমুনা টেলিভিশন ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ‘ভোট ও ভোটারের নিরাপত্তা’ শীর্ষক সংলাপ। আলোচনায় রাজনৈতিক দল, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা মতামত তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের চিফ অব পার্টি ক্যাথরিন সিসিল বলেন, ‘নাগরিকদের উদ্বেগ এখন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি বর্তমান বাস্তবতা।’ তিনি জানান, জরিপে আরও দেখা গেছে, ২৭ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন। তার ভাষায়, সহিংসতা শুধু ভোটারদের দূরে সরিয়ে দেয় না, বরং পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতাকেও দুর্বল করে।

ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের মুখ্য পরিচালক মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর লুট হওয়া অনেক অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় নির্বাচন নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তাই সব দলের এক হয়ে ভোটারদের জন্য নিরাপত্তা গাইডলাইন তৈরি করা দরকার ছিল।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা বলেন, ‘নির্বাচনের আগে ও পরে নারী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে সুস্পষ্ট আশ্বাস পাওয়া যাচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলো নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলায় রাখা নিয়েও জোরালো নির্দেশনা দিচ্ছে না। এতে উদ্বেগ বাড়ছে।’

চ্যানেল ২৪-এর সিনিয়র রিপোর্টার জিনিয়া কবির সূচনা বলেন, ‘নির্বাচনে আইন অনুযায়ী গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। অতি উৎসাহী নেতাকর্মীরা যেন প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সেজন্য দলগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর বলেন, ‘বড় দলগুলোর পেশিশক্তির ব্যবহার প্রার্থীদের নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় বাধা।’

এ সময় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুর রব। তিনি বলেন, ‘এখনো সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়নি এবং প্রশাসন নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করছে।’ নেতাকর্মীরা ভুল করলে ক্ষমা চাওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির গবেষণা টিমের সদস্য ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো আগের ভুল থেকে শিক্ষা নিচ্ছে। অভিযোগ গ্রহণের জন্য হটলাইন চালু করা হয়েছে এবং নেতাকর্মীদের অনিয়মের বিষয়ে দল কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’

সংলাপে বক্তারা একমত হন, ভোট ও ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে বাস্তব পদক্ষেপ, দলীয় শৃঙ্খলা এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অবস্থান এখন নাগরিকদের প্রধান প্রত্যাশা।

সারাবাংলা/একে/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

বগুড়ায় ইফতারে টক দই বিক্রির শীর্ষে
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৫৯

আরো

সম্পর্কিত খবর