মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধ একটি ‘আলাদা সংঘর্ষ।’
বুধবার (৮ এপ্রিল) ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক হামলা চালিয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় শত শত মানুষকে হত্যা ও আহত করার পর ট্রাম্প পাবলিক ব্রডকাস্টার পিবিএসকে এ কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, “হিজবুল্লাহর কারণে তারা এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এটাও সমাধান হয়ে যাবে। সব ঠিক আছে।”
এদিকে ইরানের সতর্ক করে বলেছে যুদ্ধবিরতি থেকে লেবাননকে বাদ দেওয়ায় পুরো অঞ্চলে এই সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্র-সমর্থিত ইরানি সংবাদ ফার্স নিউজ জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জবাবে তেহরান কঠোর পদক্ষেপ নেবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় “হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।”
তবে ইরানি কর্মকর্তারা এ প্রতিবেদন নিশ্চিত করেননি। এছাড়া এই স্থগিতাদেশ সাময়িক, নাকি দীর্ঘমেয়াদি হবে—তাও স্পষ্ট নয়।
ইরানি সূত্রের বরাতে তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, লেবাননে হামলা চালিয়ে ইসরায়েল যদি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত রাখে, তাহলে তেহরান এই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়াবে।
অন্যদিকে লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরুদ্দিন জানান, এই হামলায় অন্তত ১১২ জন নিহত এবং ৮০০ জনের বেশি আহত হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘আমরা লেবাননে ঘটে যাওয়া এক বিপজ্জনক উত্তেজনার মুখোমুখি, যেখানে ১০০টির বেশি বিমান হামলায় বৈরুত, দাহিয়েহ, বেকা, মাউন্ট লেবানন ও দক্ষিণাঞ্চলে নিরীহ বেসামরিক মানুষদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।’
এই হামলা লেবাননে মানবিক ও বাস্তুচ্যুতি সংকটকে আরও গভীর করেছে। এতে ১২ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।