ইরানের বিরুদ্ধে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে দেশটিতে পারমাণবিক বোমা হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা বা সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউজ।
সম্প্রতি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের একটি রহস্যময় মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে যে পরমাণু যুদ্ধের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল তা প্রশমিত করতেই এমন আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিল ওয়াশিংটন।
হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যে সামরিক অভিযানের কথা থাকলেও সেখানে পারমাণবিক হামলার কোনো ন্যূনতম ইঙ্গিত ছিল না। মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া জল্পনা বন্ধ করতেই এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া কঠোর আল্টিমেটাম কার্যকর করতে মার্কিন বাহিনীর হাতে এমন কিছু বিশেষ অস্ত্র রয়েছে যা ‘এখনও ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি’—জেডি ভ্যান্সের এমন মন্তব্যের পরই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের ঘনিষ্ঠ একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয় যে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে ‘পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারেন’ এবং ভ্যান্স মূলত সেই সংকেতই দিয়েছেন।
এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) অত্যন্ত কঠোর ও কিছুটা আক্রমণাত্মক ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানায়। সেখানে বলা হয় “ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যা বলেছেন তাতে আক্ষরিক অর্থেই পারমাণবিক হামলার কোনো আভাস নেই ওহে নির্বোধের দল।”
যদিও হোয়াইট হাউজ পারমাণবিক হামলার বিষয়টি নাকচ করেছে তবুও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া আল্টিমেটামের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় উত্তেজনা কমছে না। ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে ইরান যদি অবিলম্বে ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্ত মেনে না নেয় তবে দেশটির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। এমনকি তিনি ইরানকে লক্ষ্য করে বলেছেন, ‘আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে’।