যে কোম্পানিটি একসময় বিশাল ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করেছিল, সেই ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ দ্বিতীয়বারের মতো বন্ধ হয়ে গেছে। ১৮৭৪ সালে মূল কোম্পানিটি বিলুপ্ত হওয়ার প্রায় ১৫২ বছর পর, ২০১০ সালে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ব্যবসায়ী সঞ্জীব মেহতা নামটির মালিকানা কিনে এটি পুনরায় চালু করেছিলেন। তবে এবার বিলাসবহুল রিটেইল ব্র্যান্ড হিসেবে যাত্রা শুরু করেও শেষ রক্ষা হলো না; ঋণের দায়ে দেউলিয়া হয়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে আধুনিক এই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সানডে টাইমস’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসেই কোম্পানিটি অবসায়নের জন্য লিকুইডেটর নিয়োগ করেছিল। বর্তমানে কোম্পানিটির ঋণের পরিমাণ প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড। এর মধ্যে মূল কোম্পানির কাছে ঋণ ৬ লাখ পাউন্ড, বকেয়া কর প্রায় ২ লাখ পাউন্ড এবং বাকি অর্থ কর্মচারীদের বেতন বাবদ বকেয়া। লন্ডনের মেফেয়ারে অবস্থিত তাদের বিখ্যাত ফ্ল্যাগশিপ স্টোরটি বর্তমানে খালি পড়ে আছে এবং ভাড়ার নোটিশ ঝুলছে। এমনকি তাদের ওয়েবসাইটটিও বর্তমানে বন্ধ।
২০১০ সালে সঞ্জীব মেহতা যখন এই কোম্পানির স্বত্ব কেনেন, তখন বিশ্বজুড়ে একে ‘শোষিতের প্রতিশোধ’ হিসেবে দেখা হয়েছিল। যে কোম্পানি একসময় ভারত শাসন করেছিল, তার মালিকানা একজন ভারতীয়র হাতে আসাটা ছিল এক বড় ঐতিহাসিক ঘটনা।
সঞ্জীব মেহতা তখন বলেছিলেন, ‘ঐতিহাসিক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আগ্রাসনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল, কিন্তু আজকের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গড়ে উঠেছে সহমর্মিতার ওপর।’ তবে উচ্চমূল্যের চা, চকোলেট এবং মশলার ব্যবসাটি শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।
১৬০০ সালে রানী এলিজাবেথ-১ এর সনদ নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই কোম্পানিটি ছিল বিশ্বের প্রথম যৌথ মূলধনী কোম্পানিগুলোর একটি। ১৭১২ সালে সুরাটে প্রথম বাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপনের পর ধীরে ধীরে তারা সামরিক শক্তিতে রূপ নেয়। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর তারা বাংলার দেওয়ানি লাভ করে এবং কার্যত সরকারে পরিণত হয়।