Friday 20 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

এপস্টেইন ফাইলসে প্রকাশিত আলোচিত অ্যান্ড্রু-ভার্জিনিয়ার ছবিটি আসল

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৫২ | আপডেট: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:১৮

ভার্জিনিয়া জিউফ্রে এবং গিসলাইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেনের প্রকাশিত ছবি। বিবিসি

জেফরি এপস্টেইনের বান্ধবী গিসলাইন ম্যাক্সওয়েল এর একটি ইমেইল থেকে জানা গেছে, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য এবং রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেনের সঙ্গে ভার্জিনিয়া জিউফ্রে নামের এক নারীর তোলা ছবিটি আসল।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বৃটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। আলোচিত এপস্টেইন ফাইলসের সর্বশেষ প্রকাশিত নথিতে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন এবং ভার্জিনিয়া জিউফ্রের ছবিটি পাওয়া গেছে।

ছবিটি প্রকাশের জেরে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাক্ষ্য দিতে মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে। তিনি যুক্তরাজ্যের উইন্ডসর শহরে অবস্থিত রয়্যাল লজ ছেড়ে নরফোকের স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এপস্টেইনে ফাইলের সর্বশেষ অংশ হিসাবে২০১৫ সালে জেফরি এপস্টেইনের কাছে পাঠানো ওই বার্তার শিরোনাম ছিল ‘ড্রাফট স্টেটমেন্ট’। সেখানে জি ম্যাক্সওয়েল (আংশিকভাবে গোপন করা) নামের একজন লেখেন, ‘২০০১ সালে আমি লন্ডনে ছিলাম; যখন (নাম অস্পষ্ট) আমার কয়েকজন বন্ধুর (নামগুলো গোপন করা) সঙ্গে দেখা করেন; যাদের মধ্যে প্রিন্স অ্যান্ড্রুও ছিলেন। একটি ছবি তোলা হয়েছিল। আমার ধারণা, তিনি ছবিটি বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের দেখাতে চেয়েছিলেন।’

২০১৪ সালে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের প্রথম অভিযোগ তুলেছিলেন ভার্জিনিয়া জিউফ্রে নামের আরেক নারী। জিউফ্রে অভিযোগ করেছিলেন, এপস্টেইন ও তার বান্ধবী গিলেন ম্যাক্সওয়েল তাকে পাচার করেছিলেন এবং ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেছিলেন। ওই সময় তার বয়স ছিল ১৭ বছর।

অ্যান্ড্রু বরাবরই জিউফ্রের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জিউফ্রের পরিবার বিবিসির নিউজনাইটকে জানিয়েছে, ইমেলটি প্রমাণ করে তার অভিযোগ সঠিক।

জিউফ্রের ভাই স্কাই রবার্টস বলেন, ‘এটা প্রমাণ করে ভার্জিনিয়া মিথ্যা বলেনি সে সঠিক ছিল । এটা এমন একটি মুহূর্ত যেখানে আমরা আমাদের বোনের জন্য সত্যিই গর্ব করতে পারি।’

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) থেকে প্রকাশিত নথিতে থাকা এই ই–মেইলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে ‘গিসলাইন ম্যাক্সওয়েল’ তার বাড়িতে কোনো ‘অনভিপ্রেত’ ঘটনা সম্পর্কে জানতেন না। নথিতে ব্যক্তির নাম মুছে দেওয়া হলেও ঘটনার বিবরণ নির্দেশ করে, ওই ই–মেইলের প্রেরক ছিলেন ম্যাক্সওয়েল এবং এখানে ভার্জিনিয়ার কথাই বলা হচ্ছে।

জিউফ্রে অভিযোগ করেছেন, মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর কিশোর বয়সে তার সঙ্গে তিনবার যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন অবশ্য এই দাবি অস্বীকার করেছেন। অ্যান্ড্রু ২০২২ সালে ভার্জিনিয়ার সঙ্গে আদালতের বাইরে একটি সমঝোতায় পৌঁছান। তবে সেখানে তিনি দায় স্বীকার করেননি বা ক্ষমা চাননি।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বিবিসি নিউজ মাউন্টব্যাটেন–উইন্ডসরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

এর আগে ২০১১ সালে এপস্টেইনের পাঠানো অন্য একটি ই–মেইলেও ওই ছবির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছিল। সেখানে এপস্টেইন লিখেছিলেন, ‘হ্যাঁ, তিনি (ভার্জিনিয়া) আমার উড়োজাহাজে ছিলেন এবং অ্যান্ড্রুর সঙ্গে তাঁর ছবি তোলা হয়েছিল।’

২০১৯ সালে নিউজনাইটের সাথে এক সাক্ষাৎকারে, মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর জিউফ্রে সাথে দেখা করার কথা অস্বীকার করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন ছবিটি বা ছবির কিছু অংশ জাল হতে পারে।

তিনি সেই সময় বলেছিলেন, কেউ প্রমাণ করতে পারবে না যে ছবিটি জাল করা হয়েছে কিনা, তবে আমার মনে নেই যে ছবিটি কখনও তোলা হয়েছিল কিনা।

তিনি আরও দাবি করেন, তিনি সে সময় ম্যাক্সওয়েলের বাড়িতে ছিলেন না, বরং ওকিং এলাকার একটি পিৎজা এক্সপ্রেসে ছিলেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি)  নিউজনাইটে কথা বলতে গিয়ে জিউফ্রের ভাবি আমান্ডা রবার্টস অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি। তিনি বলেন, তথাকথিত এপস্টেইন ফাইলস থেকে নথি প্রকাশ হওয়াটা ছিল একেবারে ‘ঝড়ের মতো অভিজ্ঞতা’।

আমান্ডা বলেন, ‘আমি আবেগাপ্লুত। কারণ, আমি চাইতাম, তিনি (জিউফ্রে) আজ বেঁচে থাকুক এবং এ মুহূর্তটা দেখুক। তিনি এত দিন, এত কষ্ট করে লড়াই করেছেন। তিনি ছিলেন ভীষণ শক্ত মনের মানুষ।’

আমান্ডা আরও বলেন, ‘আমরা তার অর্জন নিয়ে গর্বিত; কিন্তু এ মুহূর্তে আমরা তাঁকে ভীষণভাবে মিস করছি। এ সময়টা তার উদ্‌যাপন করার কথা ছিল।’

এর আগে নিউজনাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে পরিবারটি বলেছিল, তারা ‘আশা করছে যে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হবে।’

ভার্জিনিয়া জিউফ্রে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। ২০২২ সালে আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের সমঝোতায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়। জিউফ্রে গত বছর আত্মহত্যা করেন।

জিউফ্রের মরণোত্তর স্মৃতিকথা প্রকাশের পর গত বছরের অক্টোবরে অ্যান্ড্রুর প্রিন্স উপাধি বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে ঘোষণা করা হয়, তাকে উইন্ডসর এস্টেটের রয়্যাল লজ বাসভবন ছাড়তে হবে। তিনি ২০০৪ সাল থেকে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন তিনি অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন–উইন্ডসর নামে পরিচিত হন।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন–সংক্রান্ত যেসব নথি, ই–মেইল ও ছবি প্রকাশ করেছে, সেগুলোতে কুখ্যাত এ যৌন নিপীড়কের বিস্তৃত যোগাযোগ নেটওয়ার্কের চিত্র উঠে এসেছে। এতে বড় বড় তারকা, ব্যবসায়ী ও বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের তথ্য রয়েছে।

২০০৮ সালে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌনবৃত্তিতে প্রলুব্ধ করার দায়ে এপস্টেইন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও প্রভাবশালী মানুষদের সঙ্গে তার সম্পর্ক বজায় ছিল।

একটি মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৯ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা যান এপস্টেইন। আর ম্যাক্সওয়েল যৌনপণ্য পাচারের অভিযোগে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর