Friday 20 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত অন্তত ৫ হাজার: ইরানি কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:০১ | আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৩৩

রাজপথে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ৫০০ সদস্যসহ অন্তত ৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির একজন কর্মকর্তা।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা যাচাইকৃত তথ্যের বরাত দিয়ে এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। তিনি এই প্রাণহানির জন্য ‘সন্ত্রাসী ও সশস্ত্র দাঙ্গাকারীদের’ দায়ী করে বলেছেন, ‘তারা নিরীহ ইরানিদের হত্যা করেছে।’

গত ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক দুর্দশার প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুত দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং তা ধর্মীয় শাসনের অবসানের দাবিতে রূপ নেয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই দেশটিতে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী অস্থিরতা।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দফায় দফায় হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘রাজপথে সাধারণ মানুষকে হত্যা বা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে। শুক্রবার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি ৮০০ মানুষের পূর্বনির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার জন্য তেহরান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তবে এর একদিন পরেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এক ভাষণে ট্রাম্পকে ‘অপরাধী’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দেওয়ার মাধ্যমে প্রাণহানি ঘটানোর জন্য তাকে দায়ী করেন। খামেনি বলেন, ‘আমরা দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেব না, তবে অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক অপরাধীদের শাস্তিহীন ছেড়ে দেব না।’

এদিকে, ইরানের বিচার বিভাগ ইঙ্গিত দিয়েছে যে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতে পারে। বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গীর এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিক্ষোভের বেশ কিছু ঘটনাকে ‘মোহারেব’ বা ‘আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার শাস্তি ইসলামি আইনে মৃত্যুদণ্ড।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তাদের হিসেবে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৩০৮, তবে আরও ৪ হাজার ৩৮২টি মৃত্যুর ঘটনা পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। সংস্থাটি এখন পর্যন্ত ২৪ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিক্ষোভের গতিবিধি বিশ্লেষণে দেখা যায়, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি সহিংসতা ও প্রাণহানি ঘটেছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, ইরাক সীমান্ত দিয়ে সশস্ত্র কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ইরানে প্রবেশের চেষ্টা করছে, যা অস্থিরতাকে আরও উস্কে দিচ্ছে।
জনৈক প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে জানান, সাধারণ বিক্ষোভকারীদের মাঝে ছদ্মবেশে সশস্ত্র ব্যক্তিদেরও তিনি সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালাতে দেখেছেন।

সারাবাংলা/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর