Monday 13 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে এগোচ্ছে ওয়ালটন হাই-টেক ও ডিজি-টেক একীভূতকরণ

সারাবাংলা ডেস্ক
১৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৩৭

ঢাকা: পুঁজিবাজারে প্রকৌশল খাতে তালিকাভুক্ত ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র সঙ্গে দেশের শীর্ষ প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন গত ৯ এপ্রিল কোম্পানি ম্যাটার নম্বর ৩১৮/২০২৬-এ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত নির্দেশনা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ওয়ালটন হাই-টেকের পরিচালনা পর্ষদের ৫০তম সভায় একীভূতকরণ সংক্রান্ত পরবর্তী সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) কোম্পানির প্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) অনুযায়ী, শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন গ্রহণের লক্ষ্যে আগামী ৪ মে রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার (২১ মে) ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ সাধারণ সভা বা ইজিএম। একই সঙ্গে ক্রেডিটরদের সম্মতির বিষয়টিও প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনায় থাকবে। তবে প্রস্তাবিত এই একীভূতকরণ কার্যকর হবে শেয়ারহোল্ডার ও ক্রেডিটরদের অনুমোদন, সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মতি এবং হাইকোর্ট ডিভিশনের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, এই একীভূতকরণের ভিত্তি তৈরি হয় গত ৩ সেপ্টেম্বর যখন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি. ও ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মধ্যে একটি পারস্পরিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। একই দিনে ওয়ালটন হাই-টেকের ৪৬তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় একীভূতকরণ-সংক্রান্ত এমওইউ অনুমোদন দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই একীভূতকরণ বাস্তবায়িত হলে ওয়ালটন হাই-টেকের প্রোডাক্ট লাইন আরও শক্তিশালী হবে। বর্তমানে ওয়ালটন ডিজি-টেক ল্যাপটপ, কম্পিউটার, প্রিন্টার, মোবাইল ফোন, প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড (পিসিবি), ইলেকট্রিক বাইকসহ ১২৩ ধরনের হাই-টেক পণ্য ও এক্সেসরিজ উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের একমাত্র মোবাইল ফোন এবং পিসিবি ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানা স্থাপন করেছে। একীভূতকরণের ফলে এসব পণ্য ওয়ালটন হাই-টেকের ব্যবসায়িক পরিধিতে যুক্ত হবে, যা কোম্পানির বাজার সম্প্রসারণ, কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সব মিলিয়ে এই একীভূতকরণকে বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স ও উচ্চ প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদন খাতে একটি কৌশলগত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আর্থিক দিক থেকেও উভয় প্রতিষ্ঠানই শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ৩০ জুন, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত অর্থবছর অনুযায়ী ওয়ালটন ডিজি-টেকের পেইড-আপ ক্যাপিটাল ছিল ৩০ কোটি টাকা, নিট রেভিনিউ ৯১৫.৮০ কোটি টাকা এবং কর-পরবর্তী মুনাফা ৪.০৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে একই সময়ে ওয়ালটন হাই-টেকের পেইড-আপ ক্যাপিটাল ছিল ৩০২.৯৩ কোটি টাকা, নিট রেভিনিউ ৭,০৮২.২৫ কোটি টাকা এবং কর-পরবর্তী মুনাফা ১,০৩৬.৬২ কোটি টাকা। ওয়ালটন হাই-টেক বর্তমানে রেফ্রিজারেটর, কম্প্রেসর, এয়ার কন্ডিশনার, টেলিভিশন, এলিভেটর, ফ্যান, ক্যাবল ও ওয়াশিং মেশিনসহ বিভিন্ন হোম ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদন, বাজারজাত ও রফতানি করে আসছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে , ওয়ালটন ডিজি-টেক দেশের শীর্ষ প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন, বিপণন ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সুনাম অর্জন করেছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত হলে ওয়ালটন হাই-টেকের ব্যবসা আরও সম্প্রসারিত হবে এবং বিনিয়োগকারীরা এর সুফল পাবেন। অন্যদিকে ওয়ালটন হাই-টেক পুঁজিবাজারে একটি কমপ্লায়েন্সনির্ভর, মৌলভিত্তিসম্পন্ন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান; এর সঙ্গে একীভূত হলে ব্যবসার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।

সারাবাংলা/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর