Tuesday 24 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তাকে শোকজ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:০৫ | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:১১

ঢাকা: দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স ইস্যু এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দেওয়ায় ,বাংলা‌দেশ ব্যাং‌কের তিন কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাদের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

শোকজপ্রাপ্ত তিন কর্মকর্তা হলেন— নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ও এসএমএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা, নীল দল থেকে নির্বাচিত বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি একেএম মাসুম বিল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক কর্মদিবস পর, ১৬ ফেব্রুয়ারি আকস্মিকভাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকে এই তিন কর্মকর্তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তারা অভিযোগ করেন— অপেক্ষাকৃত কম দুর্বল এক্সিম ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে পাঁচটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ। ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স, বিশেষ করে বিকাশকে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া তড়িঘড়ি করা হচ্ছে। ব্যাংক রেজল্যুশন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে হবে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নথিপত্রে দেখা যায়, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স মূল্যায়নসহ মোট ৮টি এজেন্ডা নিয়ে পর্ষদ সভা আহ্বান করা হয়েছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্টাফ রেগুলেশন অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলন, সভা বা বিবৃতি দেওয়ার আগে গভর্নরের অনুমোদন নিতে বাধ্য। গভর্নর বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা অভ্যন্তরীণ ফোরামে তোলার সুযোগ রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়ম ভঙ্গ করে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এবং একইদিনের পর্ষদ সভার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি পক্ষ পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নেওয়া হবে।

জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত সংশোধনী কার্যকর করা, ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন এবং কর্মকর্তাদের পদোন্নতিসহ বিভিন্ন দাবিতে নীল, হলুদ ও সবুজ— এই তিন প্যানেলের সমন্বয়ে একটি ঐক্য গড়ে উঠেছে।

কাউন্সিলের সভাপতি একেএম মাসুম বিল্লাহ বলেন, “আমরা প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন চাই, ব্যক্তির নয়। স্বায়ত্তশাসন মানে এই নয় যে, প্রতিষ্ঠানের প্রধান একনায়ক হয়ে উঠবেন।”

অন্যদিকে, অতীতে ব্যাংক খাতে অনিয়ম-দুর্নীতির সময় কর্মকর্তাদের নীরব থাকার প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, “আগে না বললেও এখন না বললে দায় এড়ানো যাবে না।”

শোকজের জবাব পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়—তা নির্ভর করবে কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা ও প্রশাসনিক মূল্যায়নের ওপর।

ব্যাংক খাতের চলমান সংস্কার, একীভূতকরণ প্রক্রিয়া এবং ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স ইস্যু ঘিরে এই ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর