Monday 23 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ব্যাংক খাতে ঋণের সুদহার নিম্নমুখী, স্থবির বিনিয়োগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫২

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত তারল্য সৃষ্টি হওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদহার ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখলেও বাজারে টাকার জোগান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ কার্যক্রমের মন্থর গতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখা অর্থের ওপর সুদহার কমানোর প্রভাব সরাসরি পড়েছে ঋণবাজারে। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংক ঋণের সুদহার ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নতুন বিনিয়োগ প্রত্যাশিত হারে বাড়েনি। এর ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ চাহিদা কমে গেছে এবং ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ১০ শতাংশে, যা এযাবৎকালের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বিজ্ঞাপন

চলতি অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ৪৯০ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে। এর বিপরীতে বাজারে ছাড়া হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। এতে ব্যাংকিং খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ অতিরিক্ত অর্থের বড় অংশ ব্যাংকগুলো আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখছিল। তবে এ প্রবণতা কমাতে স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ)-এর সুদহার দুই দফায় মোট ১০০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে টাকা রেখে ঝুঁকিমুক্ত আয় করার আগ্রহ কিছুটা কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে ব্যাংক খাতের ঋণের গড় সুদহার কমে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ০৩ শতাংশে। এর আগের দুই মাসে এই হার ছিল যথাক্রমে ১২ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ। অর্থাৎ সেপ্টেম্বর থেকেই সুদহার ধারাবাহিকভাবে কমছে। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বেশ কয়েকটি ব্যাংক নতুন করে ঋণের সুদহার কমিয়েছে। তুলনামূলকভাবে ভালো আর্থিক অবস্থানে থাকা কিছু ব্যাংক বর্তমানে ১০ থেকে ১১ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ব্যাংকগুলোর হাতে তারল্য থাকলেও বিনিয়োগের চাহিদা বাড়েনি। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখা অর্থের ওপর সুদ কমে যাওয়ায় ভালো গ্রাহক পেলে কম সুদে ঋণ দেওয়ার দিকে ঝুঁকছে ব্যাংকগুলো।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে প্রধান নীতি সুদহার (রেপো রেট) ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। বিভিন্ন মহল থেকে নীতি সুদ কমানোর দাবি উঠলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনো সে পথে হাঁটেনি। গভর্নরের ভাষ্য অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না নামা পর্যন্ত নীতি সুদহার কমানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।

বর্তমানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় বিনিয়োগে আস্থা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল সরকারের প্রত্যাশায় থাকা উদ্যোক্তারা ধীরে ধীরে নতুন প্রকল্পে এগোতে পারেন। সে ক্ষেত্রে নীতি সুদ কমানোর দাবি আরও জোরালো হতে পারে।

নির্বাচনি ইশতেহারে বিএনপি মূল্যস্ফীতি কমানোকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। অন্যদিকে বিদায়ী সরকার আগামী জুন নাগাদ মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। দীর্ঘদিন দুই অঙ্কে থাকা মূল্যস্ফীতি গত বছরের অক্টোবরে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে নেমে এলেও পরে টানা তিন মাস বেড়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ না কমা পর্যন্ত নীতি সুদহারে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রেপো রেটের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ ধার সুবিধায় ব্যবহৃত স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটির (এসএলএফ) ঊর্ধ্বসীমা সাড়ে ১১ শতাংশেও আপাতত কোনো পরিবর্তন আসছে না।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংক ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশে সীমাবদ্ধ ছিল। পরে আইএমএফ এর ঋণ কর্মসূচির শর্তের অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ‘স্মার্ট’ পদ্ধতিতে সুদহার নির্ধারণ শুরু হয়। তবে শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের ৮ মে এই পদ্ধতি বাতিল করে সুদহার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করা হয়।

সার্বিকভাবে ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়লেও বিনিয়োগে কাঙ্ক্ষিত গতি না আসায় ঋণের সুদহার কিছুটা নমনীয় হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতির গতিপথ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সুদের অবস্থানই ঋণবাজারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সারাবাংলা/এসএ

বিজ্ঞাপন

‘এক্সিকিউটিভ’ পদে নিয়োগ দিচ্ছে নগদ
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৭

আরো

সম্পর্কিত খবর