Monday 13 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নববর্ষের রঙে রাঙাতে প্রস্তুত জাবি ক্যাম্পাস

জাবি করেসপন্ডেন্ট
১৩ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:১০

জাবি: বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নিতে সাজ সাজ রব জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে। পুরোনো সব ক্লান্তি ও বেদনা ঝেড়ে ফেলে নতুন সূর্যোদয়কে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত এক প্রাণবন্ত, উচ্ছ্বসিত ক্যাম্পাস।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমন্বয়ে চারুকলা, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব এবং বাংলা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে চলছে নানামুখী আয়োজন। এবারের বর্ষবরণের প্রতিপাদ্য— ‘নববর্ষের ঐক্যতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’— যা ধারণ করছে সাম্য, সম্প্রীতি ও সম্মিলিত চেতনার বার্তা।

চারুকলা বিভাগ যেন এখন সৃজনশীলতার কর্মশালা। শিক্ষার্থীদের ব্যস্ততায় মুখর পুরো প্রাঙ্গণ—বাঁশ ও কাঠে গড়ে উঠছে বিশালাকার ষাঁড়, ঘোড়া ও পাখির নান্দনিক কাঠামো, যা শোভাযাত্রার প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠবে। রঙতুলিতে ফুটে উঠছে বৈশাখের চিরচেনা মোটিফ, মাটির পাত্রে আঁকা হচ্ছে ঐতিহ্যের নকশা। কাগজের ফুল, পাখি ও প্যাঁচার মুখোশে ধরা
পড়ছে বাঙালির সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্য।

বিজ্ঞাপন

তবে উৎসবকে সুশৃঙ্খল রাখতে প্রশাসন কিছু নির্দেশনা জারি করেছে। শোভাযাত্রায় মুখোশ পরিধান ও ক্যাম্পাসে রং ছিটানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ও কুলা-ডালার মাধ্যমে প্রতিবাদী বার্তা প্রকাশের সুযোগ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে সব আয়োজন রাত ১০টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১৪ এপ্রিল সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে উপাচার্যের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দিনের কার্যক্রম। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের আবাহনে শুরু হবে বর্ষবরণ, আর ১০টা ৩০ মিনিটে মঙ্গল শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে গিয়ে সমাপ্ত হবে।

দিনব্যাপী আয়োজনকে আরও বর্ণিল করে তুলতে বাংলা বিভাগ মহুয়া মঞ্চে আয়োজন করেছে বৈশাখী ফলাহার, লোকজ খেলা ও শিক্ষকদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ পরিবেশন করবে পুতুলনাট্য, কীর্তন ও জারিগানসহ নানা লোকজ উপস্থাপনা।

এছাড়া জাকসুর উদ্যোগে আজ চৈত্রসংক্রান্তিতে থাকছে ভেলাবাইচ ও কলাগাছে ওঠার প্রতিযোগিতা। নববর্ষের দিন আয়োজন করা হয়েছে হালখাতা ও মিষ্টিমুখের, যা উৎসবে যোগ করবে বাড়তি আনন্দ।

সব আয়োজন মিলিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় যেন প্রস্তুত এক রঙিন, প্রাণময় উৎসবের মঞ্চে রূপ নিতে। এই আনন্দযজ্ঞে অংশ নিতে সবার প্রতি উন্মুক্ত আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

নববর্ষে উদযাপনের প্রস্তুতি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার প্রধান শাহাদাত হোসেন জানান, পুরো ক্যাম্পাসে বাড়তি নিরাপত্তা যোগ করা হয়েছে। আনসার সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে বাড়তি লোককে নিরাপত্তার কাজে যুক্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটগুলোতে পাহারা আরও জোরদার করা হয়েছে। অপরিচিত ও সন্দেহভাজন কাউকে পেলে চেক করে তারপর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করানো হচ্ছে। আশা করি নববর্ষ উদযাপনে নিরাপত্তার কোনো সমস্যা হবে না।

সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, নববর্ষকে বরণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যেই সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছে। সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নজর দেওয়া হয়েছে। বৈশাখ উপলক্ষে অন্যান্য বারের তুলনায় বাড়তি হিসেবে ৩ দিনের বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে, যা নববর্ষ উদযাপনে বাড়তি মাত্রা যোগ করবে। শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতায় এবারের বৈশাখ উদযাপন প্রাণবন্ত হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর