Monday 13 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজি: যুবদল নেতার ৪ সহযোগী গ্রেফতার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩৫ | আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০৪

গ্রেফতার ৪ আসামি।

ঢাকা: কম খরচে কিডনি প্রতিস্থাপন সেবার জন্য পরিচিত অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের রাজধানীর শ্যামলীতে সেন্টার ফর কিডনি ডিসিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদা দাবির ঘটনায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনের চার সহযোগী গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

রোববার (১২ এপ্রিল) দিবাগত একটার দিকে তেজগাঁও বিভাগের তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. আক্কাস আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতার আসামিরা হলেন- মো. ফালান মিয়া (৪২), মো. রুবেল (৪২), মো. সুমন (৩৬) ও মো. লিটন মিয়া (৩৮)।

অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার বলেন, শ্যামলীর সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনকে এক নাম্বার আসামি করে ও অজ্ঞাত ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করে ওই প্রতিষ্ঠানের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ। এই ঘটনায় মঈনের চার সহযোগীকে গ্রেফতার করে র‍্যাব-২ ও র‍্যাব-৪। পরে তাদের থানায় হস্তান্তর করে র‍্যাব। মূল আসামি মঈনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, গত ১১ এপ্রিল সিকেডি হাসপাতালের ওটি ইনচার্জ আবু হানিফ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনকে এক নম্বর আসামি করে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে আসছে। দাবিকরা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা আমাকে বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল সকালে শেরেবাংলা নগর থানাধীন শ্যামলী ৩ নম্বর রোডে আমার বাসার সামনে এসে দরজা খুলতে বলে। আমার স্ত্রী দরজা খুলে দিলে আসামি মঈন আমার স্ত্রীকে বলে যে, চাঁদা বাবদ এখনই তাদেরকে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে আমাকেসহ আমার স্ত্রীর বিভিন্ন ধরণের ক্ষতিসাধন করার হুমকি দেয়। আমার স্ত্রী আসামিদের চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করাসহ চিল্লাচিল্লি শুরু করে। এ সময় আমি আসামিদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাসার অন্য একটি রুমে অবস্থান করি এবং পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কা করে হাসপাতালে অবস্থানরত আমার ছোট ভাই মো. মনির তালুকদারকে (৩৫) দ্রুত বাসায় আসার জন্য ফোন করি। পরবর্তীতে আমার ভাই বাসায় পৌঁছালে আসামী মঈনসহ অজ্ঞাতনামা ৭ থেকে ৮ জন আসামি ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আরও লোকজন জড়ো করতে থাকে।

একপর্যায়ে তারা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক সমবেত করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে এসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। তারা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে, উচ্চস্বরে স্লোগান দেয়, গালাগালি করে এবং পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালায়। এমনকি তারা সিকেডি হাসপাতালের মালিক মো. কামরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে বলে ‘কামরুলের দুই গালে জুতা মারো’ এবং ‘কামরুলের পিঠের চামড়া তুলে নেব’ মর্মে হুমকি সূচক স্লোগান দিতে থাকে। এছাড়াও তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং পুরো ঘটনাটিকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তারা মেডিকেলের ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্টের সামনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, যার ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ বিষয়ে আমি শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে পরিস্থিতি নিয়েন্ত্রণে আনেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর