Saturday 11 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সিকেডিতে চাঁদাবাজি
বেশি দামে পণ্য নিতে বাধ্য করতেন কথিত যুবদল নেতা মঈন

উজ্জল জিসান স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১১ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৪২ | আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৪৩

কথিত যুবদল নেতা মঈনুল হোসেন মঈন। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

ঢাকা: প্রায় বিনা খরচে কিডনি প্রতিস্থাপন করা ডা. কামরুল ইসলামের সিকেডি হাসপাতাল থেকে দীর্ঘ দিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছে কথিত যুবদল নেতা মঈনুল হোসেন মঈন। প্রথমে হাসপাতালে খাদ্যপণ্য সরবরাহের নামে চাঁদাবাজি করলেও পরে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে হুমকি দিলে বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে আসে। এর পর যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ডা. কামরুল ইসলামের কাছে ছুটে যান।

কেন্দ্রীয় নেতারা ডা. কামরুলকে আশ্বস্ত করেন যে, মঈন নামে যুবদলের কেউ নেই। সে যুবদলের নাম ভাঙিয়ে এসব অপকর্ম করে আসছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে বলা হয়েছে।

জানা যায়, সম্প্রতি মঈনের কাছ থেকে খাদ্যপণ্য নেওয়া বন্ধ করে দেয় সিকেডি হাসপাতাল। এর প্রতিবাদে মঈন হাসপাতালের খাদ্য ম্যানেজারকে ফোন করে হুমকি ধমকি দেন। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘খাদ্যপণ্য সরবরাহ না করতে দিলে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে প্রতিমাসে।’ বিষয়টি নিয়ে মঈনের সঙ্গে আলোচনা হয়। এর পর মঈন তার দলবল নিয়ে ‍শুক্রবার (১০ এপ্রিল) হাসপাতালে এসে হাঙ্গামা করেন। এমনকি হুমকি দেন যে, হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

এর পর ডা. কামরুল ইসলাম বিষয়টি বিএনপির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে জানায়। পরে ঘটনাটি গণমাধ্যমে এলে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ডা. কামরুলের কাছে গিয়ে বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন। সেইসঙ্গে তার মানবিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য যতপ্রকার সহায়তা দরকার তার প্রতিশ্রুতি দেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

আরও পড়ুন

যুবদল নেতার পরিচয়ে ডা. কামরুলের হাসপাতালে ‘চাঁদাবাজি’, ছুটে গেলেন কেন্দ্রীয় নেতারা

ঘটনা প্রসঙ্গে ডা. কামরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের এখানে ৪০০ জনের মতো লোক কাজ করে। এর মধ্যে ওয়ার্ড বয়, নার্স, প্রহরী, কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। এদের প্রায় সবাই এখানেই থাকেন বেশিরভাগ সময়। তারা বেতন পায় অল্প, তাই যাতে টাকাটা বাড়িতে পাঠাতে পারে, সেজন্য এখানে সবার খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আমাকে হিসাব করে চলতে হয়। আমরা পাইকারি বাজারে হিসাব করে সবকিছু কিনি। কলা, ডিম, সবজি, চাল, দুধ, মুরগি সবকিছু হিসেব করে কিনতে হয়। প্রতিদিন অনেক খরচ। দরিদ্র রোগীদের খাবার দিতে হয়। কিডনি রোগীর জন্য ভালো খাবার দিতে হয়।’

মানবিক এই চিকিৎসক বলেন, ‘প্রতিদিন অনেক চাল, তেল, ডিম, মুরগি, সবজি, কলা, ডিম ও অনেক রুটি লাগে। এগুলো হিসাব করে কিনতে হয় এবং কম টাকায় তা পোষাতে হয়। খুচরা বাজারের দামে কিনলে তো পোষাতে পারবে না। গরিব রোগীদের তিন বেলায় প্রায় হাজার টাকার খাবার মাত্র ২০০ টাকায় দিতে হয়। সিকেডিতে আমরা একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে আমরা নিচ্ছি ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। সেটা সরকারিতে করতে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা লাগে। অন্যান্য বেসরকারিতে সেটি ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে ১০ লাখ বা তারও বেশি টাকা লাগে। আমরা তো ফ্রি অব কস্টে ট্রান্সপ্ল্যান্ট করে থাকি। নিজের তো কোনো ফি রাখি না।’

কামরুল ইসলাম বলেন, ‘গত ৫ আগস্টের পর হঠাৎ হাসপাতালের পক্ষে যিনি বাজার করতেন তাকে রাস্তায় আটকিয়ে বলেন, তোমার বাজার করা চলবে না। হাসপাতালের কী কী লাগে আমি সরবরাহ করব। আমার নাম মঈন। আমি এই ওয়ার্ডে কমিশনার ইলেকশন করব। আমি বিএনপি নেতা। এখানকার সাংগঠনিক সম্পাদক।’ মঈন এক প্রকার জোর করেই মালামাল সরবরাহ করতে থাকেন বলে জানান এই মানবিক চিকিৎসক।

ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘মঈন কখনো ৬৭ টাকার চাল ৭৭ টাকা কেজি ধরে বিল নিচ্ছে। এক হাজার ডিম লাগে। সেই ডিম সাড়ে ৯ হাজার টাকা নিচ্ছে। কলার দাম ২০ টাকা ধরছে। ছোট রুটির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে ধরছে। নানাভাবে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি ও প্রশাসনকে জানানোর পরও কোনো লাভ হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা এসেছিলেন। তারা আশ্বস্ত করে গেছেন। নির্বিঘ্নে হাসপাতালের কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন। মঈন ছাড়াও আরও কেউ যদি ডিস্টার্ব করেন সেটাও জানানোর জন্য বলে গেছেন।’

জানা যায়, মঈন শুধু সিকেডি হাসপাতালেই খাদ্যপণ্য সরবরাহ করতেন তা নয়। তিনি নিউরো সায়েন্স হাসপাতাল ও নাক, কান গলা ইনস্টিটিউটেও জোর করে খাদ্য সরবরাহ করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সে এই তিন হাসপাতালে জোর করে খাদ্যপণ্য সরবরাহের কাজ নেন। এতে তার যে লাভ আসতো তা দিয়ে টোকাই ছেলেদের পালতেন। এ ছাড়া, এসব টোকাইদের দিয়ে চুরি, ছিনতাইসহ নানান অপকর্ম করেন। টোকাইদের দিয়ে মঈন সবধরণের অপকর্ম করেন।’

এ বিষয়ে জানতে মঈন উদ্দিন মঈনকে ফোন করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শেরেবাংলা নগর থানার স্থানীয় লোকজন বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে মঈন কাউন্সিলর নির্বাচন করবেন- এমন প্রচার শুরু করেন। পোস্টারও লাগিয়েছেন তিনি। একটি পোস্টারে দেখা যায়, তিনি কাউন্সিলর পদপ্রার্থী। সেখানে নিজের পরিচয় দিয়েছেন শেরেবাংলা নগর থানা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেরেবাংলা নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে, একটি অভিযোগ দিতে। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

বিনা খরচে ঘর বাঁধল ৪ দম্পতি
১১ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৪৮

আরো

উজ্জল জিসান - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর