Thursday 09 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

অফিস সহকারীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৯ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৩২ | আপডেট: ৯ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৩৮

রানি বেগম।

ঝালকাঠি: ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অফিস সহকারীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজাপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের সাবেক কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর কাঁঠালিয়া উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তিনি নিয়মিত অফিস না করায় কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। এদিকে, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় নিয়মিত অফিস করতে পারছিলেন না। ঘটনার দিন সকালে আনোয়ার হোসেন তার স্ত্রী রানি বেগমকে নিয়ে অফিসে এসে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করেন।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ উঠেছে, বিকেলে মো. কামরুল ইসলাম অফিসে এসে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে স্ট্যাপলার মেশিন দিয়ে রানি বেগমের মুখে আঘাত করেন। এতে তার থুতনি ও গাল কেটে রক্তক্ষরণ হলে তিনি চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এ সময় তাকে উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ও থানায় জানানো হয়।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

ভুক্তভোগী রানি বেগম বলেন, ‘সকালে স্বামীকে নিয়ে অফিসে এসে সারাদিন অপেক্ষা করি। বিকেলে কর্মকর্তা অফিসে আসলে তাকে সালাম দেওয়ার পরও তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে উল্টো আমার স্বামীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং নানা অভিযোগ তুলতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি আমার স্বামীকে মারতে উদ্যত হন। এ সময় আমি বাধা দিতে গেলে আমাকে স্ট্যাপলার মেশিন দিয়ে আঘাত করা হয়।’

তবে অভিযুক্ত উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলামের কাছে মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, ‘তারা নিজেরাই এমনটা করেছে। আমি কাউকে মারধর করিনি।’

এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অফিসার ইন চার্জ) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’