ঢাকা: বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীকে গুম করার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িচালকসহ নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলী। সে সময় ডিজিএফআই প্রধান ছিলেন শেখ মামুন খালেদ।
মামুন খালেদ বর্তমানে জুলাই আন্দোলনসংশ্লিষ্ট একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে রিমান্ডে রয়েছেন। রিমান্ডে তিনি বলেছেন, টিপাইমুখ বাঁধ এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়ার কারণেই ইলিয়াস আলীকে সেসময় গুম করা হয়েছিল। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সারাবাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে মামুন খালেদ দাবি করে বলেছেন, ‘তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছিল। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিল র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়েনের একটি টিম। গুমের আগে ও পরে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হয়েছিল।’
ডিজিএফআই’র সাবেক এই প্রধান স্বীকার করে বলেন, ‘গুম অভিযানে ডিজিএফআইয়ের দু’জন মেজর প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিলেন। এ ছাড়া, আরও কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা আগে থেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন।’ যদিও জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতে মামুন খালেদ নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
তবে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, তৎকালীন ডিজিএফআই প্রধান হিসেবে শেখ মামুন খালেদের নির্দেশেই পুরো অভিযান পরিচালিত হয় এবং ডিজিএফআই ও র্যা্বের একটি বিশেষ দল এতে অংশ নেয়।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন, তদন্তে যাদের নামই আসবে তাদের সবাইকে গ্রেফতার করা হবে। এরই মধ্যে তার দেওয়া তথ্যে, কর্নেল আফজাল নাছেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও অনেককে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘গ্রেফতার সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের রিমান্ডে নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, ১/১১’র কুশীলবদের মধ্যে প্রথম ২৩ মার্চ রাজধানীর বারিধারার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ চৌধুরীকে। এরপর লেফটেন্যান্ট জেনারেল মামুন খালেদ ও সবশেষ কর্নেল আফজাল নাছেরকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনজনই ডিবিতে রিমান্ডে রয়েছেন।
রিমান্ডে এরই মধ্যে তারা খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অতিরিক্ত ব্যালট ছাপিয়ে কারচুপির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় আনা এবং ইলিয়াস আলীকে গুমের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। এ ছাড়া, ১/১১’র সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রিমান্ডে নিয়ে যৌথবাহিনী যে নির্মম নির্যাতন করেছেন সে সম্পর্কেও বিভিন্ন তথ্য জানিয়েছে আসামিরা।