কক্সবাজার: কক্সবাজারের পেকুয়া থেকে চুরি হওয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্যবহৃত ৮০টি গ্যাসের সিলিন্ডার চট্টগ্রাম নগরী থেকে উদ্ধার করেছে পেকুয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চাক্তাই এলাকা থেকে এসব গ্যাসের সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়।
বৃহম্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিরা হলেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে মো. ইলিয়াস (৪০) এবং বায়েজিদ থানার জালালাবাদ এলাকার মো. বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. কাউসার (৩৬)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্যবহৃত জাতিসংঘের অর্থায়নে আনা ৭০০টি খালি গ্যাসের সিলিন্ডার ছাদ খোলা ট্রাকে করে রিফিলের জন্য চট্টগ্রামে নেওয়া হচ্ছিল। পথে পেকুয়া চৌমুহনী ফিলিং স্টেশন এলাকায় ট্র্যাক থামিয়ে যাত্রাবিরতি নেন চালক। এ সময় চালকের চোখ ফাঁকি দিয়ে ট্র্যাকের হেলপারের সহযোগিতায় ৮০টি সিলিন্ডার কৌশলে সরিয়ে নেওয়া হয়। যাত্রাবিরতি শেষে হেলপারকে খুঁজে না পেয়ে চালকের সন্দেহ হলে সিলিন্ডার গুনে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এ ঘটনায় পেকুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে। ফুটেজ বিশ্লেষণে হেলপারের চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাজ্জাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর চাক্তাই এলাকা থেকে চুরি হওয়া সিলিন্ডারগুলো উদ্ধার করে এবং সন্দেহের ভিত্তিতে দুইজনকে আটক করে।
জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা পুলিশকে জানান, তারা গাড়ির হেলপার মোহাম্মদ নুর নবী (২৩) ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের কাছ থেকে কম দামে এসব গ্যাসের সিলিন্ডার কিনেছিলেন।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম জানান, ‘বেক্সিমকো কোম্পানির এলপিজির ফ্যাক্টরি সংশ্লিষ্ট টিএসএস লজিস্টিক লিমিটেড ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির প্রতিনিধি বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আটক দুইজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত গাড়ির হেলপার মোহাম্মদ নুর নবীকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।’