Tuesday 24 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পাহাড় কাটায় ধসের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত তিন পরিবারের

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:২৩

পেকুয়ায় পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে নেই কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা।

কক্সবাজার: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের জালিয়ারের চাঙ এলাকায় পাহাড় কেটে ফেলার ঘটনায় চরম ঝুঁকিতে পড়েছে তিনটি পরিবার। পাহাড়ধসের আশঙ্কায় গত ১৫ দিন ধরে নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের। রাত নামলেই মাটি সরে যাওয়ার শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, আবদুল খালেক, আবদুল মালেক ও মোহাম্মদ শোয়াইবের পরিবার বর্তমানে মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। পাহাড় কাটার পর তাদের বসতবাড়ির চারপাশের মাটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় পাহাড় ধসে তাদের ঘরবাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়তে পারে। এমন অবস্থায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রবাসী আমান উল্লাহ্, আবু তাহের, বাচ্চু, শাহাদাত ও ইসমাইল নামে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় নিধনের অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি এলাকাবাসীর।

বিজ্ঞাপন

এলাকাবাসী আরও জানায়, স্থানীয় দালাল অলী আহমদের মাধ্যমে টৈটং বনবিভাগের বিট কর্মকর্তা মো. এহসান অঘোষিতভাবে পাহাড় কাটার অনুমোদন দিয়ে থাকেন। ফলে প্রকাশ্যেই পাহাড় কাটা হয় এবং তা বন্ধে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ তাদের।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। উঠানের মাটি দেবে যাচ্ছে, পাহাড়ের ঢাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে মাটি। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে আছে অভিভাবকরা।

মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, ‘জালিয়ারের চাঙয়ের পাহাড়টি বহু বছরের পুরনো। এই পাহাড় কেটে ফেলায় আমরা এখন চরম ঝুঁকিতে। প্রতিবাদ করতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।’

আবদুল খালেকের স্ত্রী আসমা বলেন, ‘পাহাড়টি এমনভাবে কাটা হয়েছে যে যেকোনো মুহূর্তে ঘরবাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়তে পারে। নিরাপদ দূরত্ব রেখে কাটার অনুরোধ করায় উল্টো আমাদের গালিগালাজ করা হয়েছে।’

ভুক্তভোগীরা জানান, উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে তাদের হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও একই চক্র টৈটংয়ের গুধিকাটা এলাকায় একটি পাহাড় কেটে ধ্বংস করেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিবেশ অধিদফতর, কক্সবাজার থেকে সরেজমিনে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম মাহবুব বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

২ সচিবের দফতর পরিবর্তন
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:০১

হঠাৎ অসুস্থ জামায়াত আমির
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:২১

আরো

সম্পর্কিত খবর