ঢাকা: টেলিগ্রাম অ্যাপে বিদেশি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, টেলিগ্রামে প্রতারণার ঘটনায় গত ১ নভেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার ডক শিপইয়ার্ড এলাকা থেকে মো. ইমরান (৩২) ও মো. ফাহিম (২৪) নামের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। ফাহিম এ মামলার এজাহারভুক্ত পঞ্চম আসামি। তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মামলার বাদী দুই দফায় ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭৬ টাকা পাঠান।
এছাড়া গত ৪ সেপ্টেম্বর একই অভিযোগে পল্টন থানায় দায়ের করা আরেকটি মামলায় রোববার মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকা থেকে আসাদুজ্জামান রাব্বি (২৫) নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি জানান, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে টেলিগ্রামে ‘বিদেশি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম’সহ আকর্ষণীয় নামে ভুয়া গ্রুপ খুলে স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখাত। গ্রুপে আগে থেকে থাকা সদস্যরা বেশি লাভের ভুয়া পোস্ট দিয়ে নতুন বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করত। এসব সদস্য মূলত চক্রের সহযোগী এবং পোস্টগুলো ছিল সাজানো।
প্রলুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতেন। অধিকাংশ অ্যাকাউন্ট তৃতীয় ব্যক্তির নামে খোলা হলেও তারা প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
সিআইডি জানায়, চক্রের মূলহোতা ফারদিন আহমেদ ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে গাড়ি ক্রয় করে স্বল্প সময়ে কম দামে বিক্রি করে কাগজে লোকসান দেখিয়ে নগদ অর্থ উত্তোলন করতেন। এভাবেই অবৈধ অর্থ ‘ক্যাশ আউট’ করা হতো।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ফাহিমের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ করতেন ইমরান। এর বিনিময়ে ফাহিমকে মাসিক কিস্তিতে কমিশন দেওয়া হতো। দুজনের যোগসাজশে ফাহিমের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
ইমরানের মোবাইল ফোনে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিষিদ্ধ বাইন্যান্স অ্যাকাউন্টসহ ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
গ্রেফতার ইমরান ও ফাহিমকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়েছে। তারা এর আগে গাজীপুরের বাসন থানার একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিলেন।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, গ্রেফতার আসাদুজ্জামান রাব্বিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পূর্বে গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত সাগর যোগসাজশে এই অপরাধে সম্পৃক্ত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। রাব্বির নিকট থেকে জব্দকৃত ডিভাইসে ফেক টেলিগ্রাম আইডির সন্ধান পাওয়া যায়। সাগরের অবর্তমানে ওই অবৈধ টেলিগ্রাম গ্রুপের কার্যক্রম সাগরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গ্রেফতারকৃত আসামি আসাদুজ্জামান রাব্বি পরিচালনা করে আসছিল। প্রতারণা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।