ঢাকা: বাংলা ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ ৩০শে চৈত্র, বছরের শেষ দিন। পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করতে উৎসবের আমেজ এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে।
চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষ্যে সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল থেকে চারুকলার বকুলতলায় শুরু হয়েছে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নাচে-গানে চারুকলার বর্তমান শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠান রাঙিয়ে তুলেছেন।
বিকেল ৫ টার পর অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। আরিবা ও তার দলের ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন।
অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় রয়েছেন চারুকলার তিন শিক্ষক। উপস্থাপনায় থাকা শিক্ষক মৃদুলা মেঘা বলেন, সন্ধ্যার আগে বর্তমান শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনা চলবে। সন্ধ্যার পর চারুকলার সাবেক শিক্ষার্থীরাও পারফর্ম করবেন।
একদিকে যখন পুরাতন বছরকে বিদায়ের অনুষ্ঠান চলছে, তখন অন্যদিকে নতুন বছরকে বরণ করার সকল প্রস্তুতি সমাপনী পর্যায়ে রয়েছে। চারুকলার জয়নুল গ্যালারির পাশেই বড় ছাউনির নিচে তৈরি হচ্ছে বর্ষবরণের জন্য ৫টি মোটিফ।
সরেজমিনে দেখা যায়, মোটিফগুলোতে শেষ প্রলেফ দেওয়া হচ্ছে। এরমধ্যে মোরগ, বেহালা, হাতির কাজ প্রায় শেষ। টেপা ঘোড়া ও পায়রার কাজ শেষদিকে রয়েছে।
পাশেই চারুকলার জয়নুল গ্যালারির ভেতরে ও বাইরে প্রদর্শনী রয়েছে। এখান থেকে স্বল্পমূল্যে দর্শনার্থীরা শিল্পকর্ম ক্রয় করতে পারেন।
চারুকলার এমন আয়েজন দেখতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নাগরিকরা চারুকলায় ভিড় করেছেন। এরমধ্যে শিল্প গুণগ্রাহী মানুষ যেমন রয়েছেন, তেমন রয়েছেন সাধারণ দর্শনার্থী।
অনেকেই ঘুরে ছবি তুলছেন। রঙিন পোশাকে চারুকলা দেখছেন। কেউ কেউ গালে রঙ দিয়ে আলপনা এঁকেছেন। চারুকলার চৈত্রসংক্রান্তির আয়োজন, লিচুতলার আড্ডা আর বর্ষবরণের প্রস্তুতি পুরো প্রাঙ্গণে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছে।
চারুকলার ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষক এ এ এম কাউছার হাসান চৈত্রসংক্রান্তি অনুষ্ঠান শুরুর আগে ১৪ এপ্রিল সকালে বৈশাখী শোভাযাত্রার সম্পর্কে কথা বলেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, শোভাযাত্রায় মেট্রোপলিটন পুলিশের ১০টি ঘোড়াসাওয়ার সবার সামনে থাকবে। তারপর বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে যাবেন প্রায় ২০০ শিক্ষাথীর একটি দল। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ডিন, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষরা থাকবেন।
তিনি জানান, তারপরের সিরিয়ালে থাকবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানরা এবং সম্মানিত শিক্ষকরা, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংসদ, কবিতা পরিষদ থাকবে। এরপর থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা।
তিনি বলেন, আমাদের পাঁচটা মোটিফ তৈরি হয়েছে। প্রথমেই থাকবে মোরগ, তারপরে শান্তির পায়রা, বেহালা, ঘোড়া এবং সবশেষে থাকবে হাতি। এর পেছনে থাকবে ৪০ জনের একটি দল, যারা বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজাবে। তারপরে থাকবে পটচিত্রের স্ক্রল পেইন্টিং প্রায় ১৫০ ফিট।
কাউছার হাসান আরও জানান, এই শোভাযাত্রাকে আরও বর্ণাঢ্য করার জন্য এবার ১০টি জাতিগোষ্ঠী অংশগ্রহণ করছে।