Wednesday 25 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মশার রাজত্বে অতিষ্ঠ জনজীবন, দায় কার?

মেহেদী হাসান স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০৪ | আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৩

মশার রাজত্বে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে নগরবাসী। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

ঢাকা: শীতের বিদায় আর বসন্তের আগমনে রাজধানীজুড়ে জেঁকে বসেছে মশার উপদ্রব। সন্ধ্যা নামার আগেই মশার ঝাঁক হানা দিচ্ছে বাসাবাড়ি, অফিস ও খোলা জায়গাগুলোতে। সকাল হোক বা রাত, মশার কামড় থেকে নিস্তার নেই কারও। ঘরে বাইরে সর্বত্রই মশার দাপট। বিশেষ করে কিউলেক্স মশার তীব্রতা গতবছরের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে মশার উপদ্রব অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে মশার রাজত্বে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। কিন্তু এর প্রতিকারে সিটি করপোরেশনগুলোর দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না এবং তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগী নগরবাসীদের। তবে মশার এই ভয়াবহ বিস্তারে নগরবাসীর দায়িত্বহীনতা ও অসচেতনতাকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর মিরপুর, মগবাজার, বাসাবো, উত্তরা, বাড্ডা এবং পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কয়েল জ্বালিয়ে বা মশারি টাঙিয়েও মশার হাত থেকে নিস্তার মিলছে না। ড্রেন ও ডোবাগুলো সময়মতো পরিষ্কার না করায় বাড়ছে মশার বংশবিস্তার। বিশেষ করে কিউলেক্স মশার এই ভয়াবহ বিস্তারে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। এছাড়া, রমজানে মশার উৎপাতে ইবাদতেও মনোযোগ দিতে পারছেন না বলে অভিযোগ নগরবাসীর। তবে মিরপুরের বসতি হাউজ, আহমেদনগর, পাইকপাড়া, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় রোড, প্রিয়াঙ্কা সিটিসহ অন্যান্য নালা-খাল-বিল ও খালিপ্লটগুলো পরিষ্কার করা হলে নগরবাসীর ফেলা ময়লা আবর্জনায় সেগুলো আবার পরিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে।

মিরপুর ১২ নম্বরের বাসিন্দা শরিয়ত উল্লাহ। সারাবাংলাকে তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে ফগার মেশিন দিয়ে ধোঁয়া দেওয়া হয় ঠিকই, কিন্তু তাতে মশা মরে না। বরং, কিছুক্ষণ পর আরও দ্বিগুণ উৎসাহে ফিরে আসে। সন্ধার পর থেকে মশার উৎপাত বাড়তে থাকে। রাতে মশার জন্য কয়েল জ্বালিয়েও নিস্তার পাওয়া যায় না। মশারির ভেতরে বসে রাতের খাবার খাই। বাচ্চাদের সন্ধা থেকেই মশারি টাঙিয়ে তার ভেতরে রাখতে হচ্ছে।’

মধ্য বাড্ডায় কসবাস করেন আম্বারিন খানম। সারাবাংলার এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘সেহেরিতে উঠে একটু শান্তিতে খাব যে, সেটারও উপায় নাই। চারিদিক থেকে মশা ঘিরে ধরে। সকালেও মশা কামড়ায়। সিটি করপোরেশনেরও কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না।’

উত্তরার বাসিন্দা আজাদ ও ডেমরার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘মশার যন্ত্রণায় পাগলপ্রায় অবস্থা। প্রতিবছরই একই অবস্থা। বছরের কোনোদিন তো মশারি ছাড়া ঘুমাতেই পারি না। আর এই সময়টাতে তো সন্ধ্যার পর বাসায় বসাই যায় না। মনে হয় ঝাঁকে ঝাঁকে এই বুঝি উড়িয়ে নিয়ে যায়।’

দায়ী কে, সিটি করপোরেশ নাকি নগরবাসী?

মশা নিয়ন্ত্রণে একদিকে বরাবরই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে দায়ী করছেন নগরবাসী। প্রশ্ন তুলেছেন এই দুই সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম ও তদারকির ঘাটতি নিয়ে। অন্যদিকে, নগরবাসীদের এবং নগরের বর্জ্য অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, ডোবা-নালা-খাল-বিল পরিষ্কার করে আসার কয়েকদিনের মাথায় ময়লা-আবর্জনায় সেগুলো আবার ভরে যাচ্ছে। এগুলো নগরবাসী ও বস্তি এলাকার লোকজন করছে। ফলে সেখানে মশা উৎপাদন হচ্ছে। এ ছাড়া, আবাসিক এলাকার বাড়িওয়ালারা তাদের বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখছেন না। তবে জনবলের অভাবে প্রতিনিয়ত তদারকিও কিছুটা ঘাটতি আছে বলে স্বীকার করেন তারা।

এদিকে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এই দুই সিটি করপোরেশন প্রতিবছর মশক নিধনে শত কোটি টাকা ব্যয় করলেও এর ফল নিয়ে নগরবাসীর মনে ক্ষোভ বাড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে তিনটি প্রধান ঘাটতি উঠে এসেছে। এক. কোন এলাকায় মশার ঘনত্ব কেমন বা কোন ওষুধ মশা প্রতিরোধে সক্ষম, তার নিয়মিত কোনো ল্যাবরেটরি টেস্টিং বা ডাটাবেজ নেই। দুই. উড়ন্ত মশা মারার ‘ফগিং’ কেবল দৃশ্যমান সান্ত্বনা দেয়, কার্যকর সমাধান নয়; প্রকৃত সমাধান হলো লার্ভিসাইডিং ধ্বংস করা। তিন. ওয়াসা, রাজউক এবং সিটি করপোরেশনের মধ্যে ড্রেন ও জলাশয় পরিষ্কার নিয়ে রশি টানাটানির বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বেশিরভাগ জায়গায় এখন মশা ব্যাপক হারে বাড়ছে, এই মশা নিয়ন্ত্রণ করা কি সম্ভব?- এমন প্রশ্নের উত্তরে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগে. জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী সারাবাংলাকে বলেন, ‘এই মশা একেবারে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। এই শহরের যদি একটা সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাপনা থাকতো, যদি জলবদ্ধতা নিরসন করা যেত, সবাই মিলে যদি সচেতন হতাম, নিজের নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে জানতাম তাহলে সম্ভব হতো। অন্যথায় কখনো সম্ভব না।’

মাঠ পর্যায়ে মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে দেখা যায় না- এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ১ হাজার ১০০ মানুষ মাঠে কাজ করি। প্রতিটি ব্লকে দু’জন করে কাজ করে। কোনো সাউন্ড না থাকায় তারা নীরবে-নিভৃতে মশা মারার ওষুধ স্প্রে করে যাচ্ছে। আপনি কখনোই টের পাবেন না, দেখবেন না। যদি ধোয়া হতো তাহলে সবার চোখে পড়ত। ওই এলাকায় সে কিন্তু প্রতিদিন যাবে না, তারা সপ্তাহে দু’দিন যাবে। কারণ, মশার যে লাইফ সাইকেল সেটা দেখেই কিন্তু একটা সাইন্টিফিক্যালি দু’বার স্প্রে করলে হবে। কারণ, মশাটা লার্ভা থেকে অ্যাডাল্ট হতে মাঝখানে তিন চার দিনের একটা গ্যাপ থাকে।’

নগরবাসীর দায়িত্বহীনতার প্রশ্ন তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ডিএনসিসিতে প্রায় নয় হাজার বিঘা জলাশয় আছে। বিমানবন্দরের আশেপাশে শত শত বিঘা জলাশয়। সেই জলাশয়গুলো আপনি পরিষ্কার করে আরেকটা জায়গায় যখন যাবেন, ২০ থেকে ২৫ দিন পর দেখবেন সেই জলাশয় ভর্তি হয়ে গেছে। একটা নালা পরিষ্কার করে তিন দিন যেতে না যেতেই আবার ভরে যায়। আমরা ন্যামঝিল পরিষ্কার করেছি, একদম ঝকঝকে করা আছে এখন। ২০ থেকে ২৫ দিন পর দেখবেন ন্যামজিলের কী অবস্থা। টিঅ্যান্ডটি বস্তির ঝিলের অবস্থা এরকম। এই ঝিলের মশাই বনানী-গুলশানে আসে। পুরো খালে যদি কীটনাশক ঢেলে দিতে পারেন তাহলে হয়তো কাজ হবে। কিউলেক্স মশাটা মূলত এসব খাল বিলে জন্মে।’

ফগার মেশিন নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে ব্রিগে. জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, ‘এটা সত্য কথা, ফগার মেশিনে মশা মরে না। যখন খোলা জায়গায় ফগার মেশিন ব্যবহার করা হয় তখন মশা উড়ে যায়। তখন ৫০ শতাংশ মশা মারা যায় না। এটা আসলে খুব কার্যকর না। ধোয়া না উড়লে মানুষ মনে করে আমরা কাজ করছি না, বা আমাদের কাজ দেখা যাচ্ছে না। এ জন্য আমরা ফগার মেশিন ব্যবহার করি। তবে বড় হল রুম, ড্রেন বা আবদ্ধ কোনো জায়গায় ফগার মেশিন ব্যবহার করা হলে সেটাতে মশা মরে এবং কার্যকর। সবচেয়ে ইফেক্টিভ হলো লার্ভিসাইড। এটা সকালবেলা স্প্রে করে, নীরবে স্প্রে করা হয়। আবার প্রতিদিন কিছু মশা প্রাপ্ত বয়স্ক হচ্ছে। সেটা আবার লার্ভিসাইড দিয়ে মারা যাবে না। কম্বিনেশনটা দরকার। মশা নিয়ন্ত্রণে যতরকমের পদ্ধতি আছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সব প্রয়োগ করছে। ওষুধে কোনো সমস্যা না। এত বড় শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যদি ঠিক করা না যায় তাহলে বাস্তবতা হলো- আসলেই মশার সমস্যা সমাধান করা কঠিন।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীন সারাবাংলাকে বলেন, ‘মশা নিয়ন্ত্রণে আমরা যেসব কার্যক্রম করে থাকি তার সবগুলোই চলমান আছে। কিউলেক্স মশা প্রতিবছরই একটু বেশি বাড়ে, এই মশা ক্ষতির চেয়ে যন্ত্রণা দেয় বেশি। এ জন্য লোকজন অনেক অস্থির থাকে। এটা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমরা কাজ করছি। আর যেহেতু রোজা চলে এসেছে, তাই শুরু থেকেই প্রত্যেকটা মসজিদে খুব ভালো করে প্রতিদিনই যেন ঘনঘন ওষুধ দেওয়া হয় সেটার নির্দেশ আমরা দিয়েছি।’

জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব

এদিকে মশার উপদ্রব কেবল বিরক্তিকর নয়, এটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। মশা তাড়াতে কয়েল, স্প্রে এবং ইলেকট্রিক ব্যাটের পেছনে প্রতিটি মধ্যবিত্ত পরিবার মাসে গড়ে ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ করছে। এ ছাড়া, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন এবং রাতের ঘুমে ব্যঘাত ঘটায় কর্মক্ষমতা কমছে নগরবাসীর। এছাড়া কিউলেক্স মশা ডেঙ্গু না ছড়ালেও গোদ বা ফাইলেরিয়া রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কিউলেক্সের দাপট, সামনে আরও বিপদ

কীটতত্ত্ববিদদের মতে, বর্তমানে ঢাকার প্রায় ৯০ শতাংশ মশাই কিউলেক্স প্রজাতির। জমাটবদ্ধ নোংরা পানি এবং কচুরিপানাপূর্ণ ড্রেন বা ডোবা এদের প্রজননের প্রধান কেন্দ্র। ফেব্রুয়ারি মাসের বর্তমান তাপমাত্রা (২৫ ডিগ্রি থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) মশার ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ মশা হওয়ার জন্য সবচেয়ে আদর্শ সময়। ফলে প্রজনন হার কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। মার্চে মশার এই প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। কিউলেক্স মশা সরাসরি ডেঙ্গু না ছড়ালেও এটি ফাইলেরিয়া রোগের বাহক এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করতে এটিই যথেষ্ট।

কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার সারাবাংলাকে বলেন, ‘মশার ডেনসিটি এখন সারা বাংলাদেশে অনেক বেশি এবং এটা প্রতিদিনই বাড়বে। মার্চ মাস পর্যন্ত যতদিন বৃষ্টি না হচ্ছে, ততদিন এটা কমবে না। আসলে যখন শীতের পরবর্তী সময়ে বৃষ্টি একদমই থাকে না, ড্রেন, ডোবা-নর্দমার পানি পচে যায়, ড্রেনগুলো আটকে যায়, কচুরিপানা পচে সেখানে মশার জন্য প্রচুর খাবার তৈরি হয়। পরে যখন তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে, তখন প্রচুর মশার ডিম একসঙ্গে ফুটে যায়। সেজন্য এই সময় মশা বেড়ে যায়। খুব দ্রুত গতিতে এটাকে নিয়ন্ত্রণে না আনলে আগামী মাসে সেটা চরম আকার ধারণ করবে। নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়াটা হলো এই ড্রেন নর্দমাগুলোকে পরিষ্কার করে এখানে লার্বিসাইড প্রয়োগ করা। লার্বিসাইড প্রয়োগ করে লার্ভাগুলোকে মেরে দিতে পারলে এটা নিয়ন্ত্রণ হবে।’

প্রতিবছরই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে; কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী কোনো প্রতিকার কেন পাওয়া যাচ্ছে না- এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তো আগে থেকেই এ বিষয়ে জানাই যে, কখন মশা বাড়বে, পরিস্থিতি কেমন হবে। এটা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠানগুলো।’

সম্প্রতি এই কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কবিরুল বাশারের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসের তুলনায় চলতি ফেব্রুয়ারিতে মশার সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আর মশার ৯০ শতাংশই কিউলেক্স। ঢাকার কিছু কিছু এলাকায় মশার ঘনত্ব এতটাই বেড়েছে যে, সেখানে অবস্থান করলে একজনকে ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ৮৫০ বার মশা কামড় দিতে উদ্যত হয়।

তিন কারণে এবার মশার প্রকোপ বেড়েছে। প্রথমত, এবার শীতের মাত্রা কম আর স্বাভাবিকের চেয়ে একটু আগেই শীত বিদায় নিয়েছে। দ্বিতীয়ত, নর্দমা ও জলাশয়ের দূষণ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। তৃতীয়ত, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধির অভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এগোচ্ছে না। কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, শনির আখড়া, শ্যামপুর, রায়েরবাজার, উত্তরা ও রাজধানী-সংলগ্ন সাভার এলাকায় লার্ভা ও প্রাপ্তবয়স্ক মশার ঘনত্ব বেশি। অন্যদিকে শাহবাগ ও পরীবাগের মতো মধ্য রাজধানী এলাকায় তুলনামূলক কম পাওয়া গেছে।

ঢাকা যখন স্মার্ট সিটির পথে হাঁটার স্বপ্ন দেখছে, তখন মশার মতো ক্ষুদ্র পতঙ্গের কাছে জিম্মি হওয়া কর্তৃপক্ষের জন্য বড় ব্যর্থতা বিশ্লেষকরা। মশক নিধন কার্যক্রমকে ‘ইভেন্ট’ হিসেবে না দেখে একে একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং বিজ্ঞানভিত্তিক সেবা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি।

বিজ্ঞাপন

নিয়োগ দিচ্ছে শপআপ
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৫

রক্তাক্ত পিলখানার ১৭ বছর আজ
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:১৫

আরো

মেহেদী হাসান - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর