কুষ্টিয়া: জেলার দৌলতপুরে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে আব্দুর রহমান শামীম (৬৫) ওরফে কালান্দার বাবা নামে এক কথিত পীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রায় ৫৫ ঘণ্টা পর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। দায়ের করা এ মামলায় ১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ। তিনি বলেন, মামলায় একজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর শামীমের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করা হচ্ছিল। তার পরিবার জানিয়েছিল মামলা করলে নতুন ঝামেলা তৈরি হবে। সে কারণে তারা মামলা করতে চাচ্ছিল না।
এর আগে, শনিবার দুপুরে কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে বিক্ষুব্ধ জনতা শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় তার পরিচালিত দরবার শরিফে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। শামীম ওই দরবারের প্রধান ছিলেন এবং এলাকায় ‘কালান্দার বাবা’ নামে পরিচিত ছিলেন।
হামলার সময় তার তিন অনুসারী মহন আলী, জামিরুন নেছা ও জুবায়ের আহত হন।
রোববার কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।