গাইবান্ধা: হাটের কোলাহলের মাঝেও আলাদা করে চোখে পড়ে এক দৃশ্য—প্রকাণ্ড বটগাছের নিচে কাঠের পাটাতনে বসে টুকটুক শব্দে কাজ করে চলেছেন এক বৃদ্ধ। ছোট্ট হাতুড়ির আঘাতে তিনি যেন শুধু তালা মেরামতই করছেন না, গড়ে তুলছেন নিজের জীবনের সংগ্রামের গল্পও। তিনি নুরুল ইসলাম, বয়স ৭৫, এক নিরলস শ্রমজীবী মানুষ।
মাত্র ১০ বছর বয়সে, ষাটের দশকের শুরুতে বাবার হাত ধরে তালা মেরামতের কাজ শেখা শুরু করেন নুরুল। সেই ছোট্ট শিক্ষানবিশই আজ অভিজ্ঞ কারিগর। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে একই পেশায় থেকে তিনি সময় ও সমাজের নানা পরিবর্তন দেখেছেন, কিন্তু নিজের পথ থেকে একচুলও সরে যাননি।
একসময় গাইবান্ধা পৌর পার্কে বসে কাজ করতেন তিনি। সময়ের প্রয়োজনে স্থান বদলালেও পেশা বদলাননি। বর্তমানে গাইবান্ধা সদর উপজেলার হাসপাতাল হালুয়া বাজারে প্রায় ২৫ বছর ধরে একই জায়গায়—একটি বটগাছের ছায়ায় বসেই তালা-চাবি মেরামত করে যাচ্ছেন। এই বটগাছ যেন তার জীবনের নীরব সাক্ষী।
৪ সন্তানের জনক নুরুল ইসলাম জীবনের এই শেষ প্রান্তেও কারও ওপর নির্ভরশীল নন। নিজের শ্রমই তার ভরসা। প্রতিদিন তালা-চাবি মেরামত ও গ্যাস লাইটার ঠিক করে আয় করেন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। এই সামান্য আয়েই চলে তার সংসার।
আত্মমর্যাদার দৃঢ়তায় নুরুল বলেন, ‘কাজ করতে পারি বলেই কারও কাছে হাত পাততে হয় না। এই কাজ এখন শুধু পেশা নয়, নেশা হয়ে গেছে। অসুস্থ থাকলে কাজে আসতে না পেরে মন ছটফট করে।’
স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন সরকার বলেন , ” নুরুল ইসলামের জীবন যেন আমাদের সমাজের এক অব্যক্ত সত্যকে সামনে আনে—বৃদ্ধ বয়স মানেই থেমে যাওয়া নয়। ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে জীবনের প্রতিটি দিনই হতে পারে নতুন সংগ্রামের, নতুন সম্ভাবনার।’