Monday 13 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রাজবাড়ীর হাসপাতালগুলোতে অ্যাম্বুলেন্স চালকের অভাব, ভোগান্তিতে রোগীরা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৩ এপ্রিল ২০২৬ ২১:২৪ | আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৪২

চালকের অভাবে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে জমছে ধুলো।

রাজবাড়ী: রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালগুলোতে অ্যাম্বুলেন্স চালকের অভাবে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় জরুরি মুহূর্তে রোগীর স্বজনদের গুণতে হচ্ছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের তিনগুণ ভাড়া। বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের সেবা নিতে হচ্ছে রোগীদের।

রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতাল জেলার সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এখানে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে চারটি, কিন্তু চালক আছেন মাত্র একজন। চালকের পদ দু’টি। দুই বছর আগে একজন চালক অবসরে গেছেন, তারপর থেকে একজন চালক একাই সামলাচ্ছেন সব।

সরেজমিনে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের নতুন ভবনের গ্যারেজে পড়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্সের কোনোটিতে জমেছে ধুলো আর মাকড়শার জাল, কোনোটির টায়ার থেকে বেরিয়ে গেছে হাওয়া। নতুন ভবনের সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে আছে, রোগী বহন করা হয় সেটিতেই।

বিজ্ঞাপন

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স চালক মাসুদ বলেন, ‘জেলা সদর হাসপাতালে আগে আমরা দুইজন চালক ছিলাম। এখন আমি একাই চালক। আমি একা সব রোগী বহন করব কিভাবে? কোনো রোগী নিয়ে ঢাকা গেলে যাওয়া-আসা মিলিয়ে আট ঘণ্টা লেগে যায়। ফিরে এসেই আবার রোগী বহন সম্ভব হয় না। এতে অনেক সমস্যা হচ্ছে।’

এদিকে, রাজবাড়ী শহরের বেড়াডাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত ২০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রেও রয়েছে একটি অ্যাম্বুলেন্স। ২০২৩ সালে চালক অবসরে যাওয়ার পর থেকে সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে গ্যারেজে। যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে, কিন্তু নিয়োগ মিলছে না নতুন চালকের।

একই করুণ চিত্র ৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। চালকও ছিলেন একজন। তবে চালক তিন বছর আগে অবসরে যাওয়ার পর থেকে গাড়িটি গ্যারেজেই পড়ে আছে। ফলে পাংশা উপজেলার রোগীদের এখন সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করতে হচ্ছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর।

এসব বিষয়ে রাজবাড়ী নাগরিক কমিটির সভাপতি জ্যোতি শংকর ঝন্টু বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে, অথচ চালকের অভাবে সেটি পড়ে থাকছে। আর রোগীদের তিনগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে বেসরকারি গাড়িতে যেতে হচ্ছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের অবশ্যই দেখা উচিত।’

রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, ‘সদর হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে চারটি, কিন্তু চালকের পদ মাত্র দুইটি। একজন অবসরে গেছেন। একজন চালকের পক্ষে চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস. এম. মাসুদ বলেন, ‘শুধু অ্যাম্বুলেন্সের চালক নয়, অনেক কিছুরই সংকট রয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর