কক্সবাজার: কক্সবাজারে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। সাধারণ রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে এসে অনেক শিশুই এই অত্যন্ত সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অবশেষে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পৃথক একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে ২০ শয্যার একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হবে। কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহীউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডের ভেতরেই থাকা হাম ওয়ার্ডে মাত্র ৮টি সিটে সর্বোচ্চ ২৪ জন শিশুকে রাখার কথা থাকলেও সেখানে ভর্তি রয়েছে প্রায় ৪০ জন। অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক শিশুকে অন্য রোগীদের সঙ্গেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শান্তনু ঘোষ জানান, বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে হামে আক্রান্ত প্রায় ৬০ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ২৩ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২০ জন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মহেশখালীর বাসিন্দা ময়না পাখির ছয় মাস বয়সী শিশু আসলিহানের ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে। নিউমোনিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় চিকিৎসা শেষে বাড়ি নেওয়া হলেও কয়েক দিনের মধ্যে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি। পরে পরীক্ষায় তার শরীরে হাম শনাক্ত হলে তাকে হাম ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।
এমন ঘটনা একাধিক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেক শিশু অন্য রোগের চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতালেই হামে আক্রান্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে অন্তত ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। যদিও এর মধ্যে এক শিশুর রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৩৬৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১৮ জনে। এর মধ্যে ৩৪ জনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষায় হাম পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় কক্সবাজারকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ইতোমধ্যে জেলার দুটি উপজেলায় হাম ও রুবেলার টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, আক্রান্তদের আলাদা করে চিকিৎসা এবং হাসপাতালের ভিড় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।