Saturday 11 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চুলের নির্দিষ্ট কাটিং না মানলে শাস্তি, পাবনার এক স্কুলের নোটিশে বিতর্ক

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১১ এপ্রিল ২০২৬ ২১:১৩

স্কুলে ওই নোটিশের ছবি।

পাবনা: পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট ‘হেয়ার স্টাইল’ নির্ধারণ করে নোটিশ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। নির্দেশনা অমান্য করলে শাস্তির কথাও বলা হয়েছে, যা নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি প্রধান শিক্ষক মো. লিটন উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ বিদ্যালয়ের দেয়ালে টাঙানো হয়, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ছবির আদলে চুল ছেঁটে এবং হাত-পায়ের নখ কেটে বিদ্যালয়ে আসতে হবে।

নোটিশে একটি শিশুর চারদিক থেকে তোলা চুলের কাটিংয়ের ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে, যা অনেকটা ‘আর্মি কাট’ সদৃশ।

বিজ্ঞাপন

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের’ দায়ে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্যে বলা হয়েছে, সাঁথিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশক্রমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের এমন সিদ্ধান্তে অভিভাবকদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। কেউ একে শৃঙ্খলার অংশ হিসেবে দেখলেও, কেউ কেউ ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, ‘শৃঙ্খলা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু চুলের কাটিং নিয়ে শাস্তির হুমকি দেওয়াটা কতটা যৌক্তিক তা ভেবে দেখা দরকার। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ও মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে।’

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. লিটন উদ্দিন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও সমতা গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি কোনো চাপ নয়, বরং প্রশাসনিক নির্দেশনার অংশ।’

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিজু তামান্না বলেন, ‘এটা মূলত ছাত্রদের শৃঙ্খলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলার উদ্যোগের একটি অংশ। বর্তমানে ছাত্রদের চুল বড় রাখতে দেখা যায়। একটা স্কুলের ছাত্রদের তো চুল বড় রাখা ঠিক নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা তো স্বাভাবিক বিষয় যে, ছাত্রদের চুল ছোট-ছোট থাকবে, যেটা হাত দিয়ে ধরা যাবে না। প্রতি সপ্তাহে নখ কাটবে, পোশাক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাই এই বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে না দেখে ইতিবাচকভাবে দেখার আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর