কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফে অপহরণ করে মালয়েশিয়ায় পাচারের চেষ্টার সময় চার রোহিঙ্গা যুবককে উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫)। এ ঘটনায় মানব পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এ উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়। র্যাব-১৫’র সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) আ. ম. ফারুক এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
র্যাব-১৫ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে র্যাবের একটি আভিযানিক দল টেকনাফ পৌরসভার ঝরণা চত্বরে অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র কয়েকজন রোহিঙ্গাকে জোরপূর্বক সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে দক্ষিণ লম্বরী এলাকায় নিয়ে যাচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে সন্ধ্যা ৭টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের পর্যটন বাজার এলাকায় একটি চেকপোস্ট বসানো হয়। পরে সন্দেহজনক একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামালে দুই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন। তবে র্যাব সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করতে সক্ষম হন।
আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—নেয়ামত উল্লাহ (২৯) ও শাহ আলম (৩৭)। তারা টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নতুন পল্লানপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
উদ্ধার হওয়া এক ভুক্তভোগীর বরাতে র্যাব জানায়, শুক্রবার দুপুরে উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পের সামনে থেকে তাকে জোরপূর্বক সিএনজিতে তুলে নেওয়া হয়। পরে মারধর করে তার পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, চক্রের সদস্যরা রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন স্থান থেকে অপহরণ করে একত্রিত করে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় তাদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রত্যেকের পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাদের মালয়েশিয়ায় পাচার করার হুমকি দেওয়া হয়।
র্যাব-১৫’র সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) আ. ম. ফারুক বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া চার ভুক্তভোগীকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটক হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
এ ছাড়া, মানব পাচার প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।