Friday 10 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জ্বালানি তেলের সংকটে স্থবির রাজশাহী, ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ অপেক্ষা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১০ এপ্রিল ২০২৬ ২১:০৩

ফিলিং স্টেশনে লম্বা লাইন।

রাজশাহী: রাজশাহীতে এক মাস পেরিয়ে গেলেও জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট কাটেনি। ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য গ্রাহকদের দীর্ঘ অপেক্ষা অব্যাহত রয়েছে। এতে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ক্রেতা ও কর্মচারীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কোনো স্টেশনে তেল সরবরাহের খবর ছড়ালেই আগের দিন বিকেল থেকে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। তেল পাওয়ার আশায় চালকদের অনেকেই রাতভর রাস্তায় অবস্থান করছে।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের অভিযোগ, সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবেই সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আফরিন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. ফারুক জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ একেবারেই অপ্রতুল। স্বাভাবিক সময়ে এক সপ্তাহে যে পরিমাণ তেল বিক্রি হতো, বর্তমানে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে তা এক বেলাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক গ্রাহক তেল না পেয়েই ফিরে যাচ্ছেন, যা থেকে অসন্তোষ ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে, জ্বালানির অভাবে দৈনন্দিন কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছে। কর্মজীবীরা সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পেরে জবাবদিহিতার মুখে পড়ছেন।

এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমরা ঠিকমতো কর্মস্থলে যেতে পারছি না। সেখানে সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় অফিসিয়াল একটা চাপ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে অফিসের কাজ শেষ করে পাম্পে এসে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে পুরো দিনই শেষ হয়ে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তেল নেওয়ার এই ভোগান্তির কারণে আমরা পরিবারকেও ঠিকমতো সময় দিতে পারছি না, আবার কর্মস্থলেও যেতে পারছি না। আমাদের দিনটাই এখানে শেষ হয়ে যাচ্ছে।’

তীব্র সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন রাইড শেয়ারিং ও ফুড ডেলিভারি সেবায় যুক্ত কর্মীরা। লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে তাদের আয়-রোজগার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ফুড ডেলিভারি কর্মী পিয়ারুল বলেন, ‘সারারাত জেগেও তেল পাইনি। আজকে সারাদিন আমার আর কাজে বের হওয়া হবে কিনা, তা আমি জানি না।’

আরেক রাইডার হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার সংসারের খরচের জন্য যে ইনকাম, সেটা আজ বন্ধ হয়ে গেল। এভাবে প্রতিদিন তেল নিতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, আর লাইন শেষ হওয়ার আগেই তেল ফুরিয়ে যায়। আয়ের দিক থেকে আমি অনেক পিছিয়ে যাচ্ছি এবং আমার ইনকাম আস্তে আস্তে একেবারেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।’

এ ছাড়া, পরিস্থিতির কারণে অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়ছে এবং দৈনন্দিন আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে। সংকট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবিও জানিয়েছে এসব ভুক্তভোগীরা।