গাইবান্ধা: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় ইরি-বোরো মৌসুমে চরম সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। জমিতে সেচ দিতে বাধ্য হয়ে ১৫-১৬ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে সেখানে শ্যালো মেশিন বসিয়ে পানি তুলতে হচ্ছে। একইসঙ্গে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট, যা জনজীবনকে করে তুলেছে দুর্বিষহ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাপমারা, গুমানীগঞ্জ, কামদিয়া, কাটাবাড়ী, সাখাহার ও রাজাহার ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরেই বরেন্দ্র এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর খরা মৌসুমে এসব এলাকায় পানি সংকট দেখা দিলেও এবার ফাল্গুনের শুরুতেই পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে। বিস্তীর্ণ মাঠে সাধারণ শ্যালো মেশিনে পানি না ওঠায় কৃষকদের অনেকেই সাবমারসিবল পাম্প ব্যবহার করে গভীর থেকে পানি তুলে সেচ দিচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, অতিরিক্ত খরচে গভীর থেকে পানি তুলতে গিয়ে তাদের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। অনেকেই সময়মতো সেচ দিতে না পারায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
অন্যদিকে, সেচ সংকটের পাশাপাশি দৈনন্দিন ব্যবহার্য পানিরও তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। মাদারপুর, জয়পুর, সাহেবগঞ্জ, চক রহিমাপুর, পলুপাড়া, রামপুরা, সিন্টাজুরী, গোয়ালপাড়া ও শ্রীপুর মদনপুরসহ আশপাশের এলাকাগুলোর অধিকাংশ নলকূপেই পানি উঠছে না। ফলে বিশুদ্ধ পানির জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, ‘প্রতিবছর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে এই পানি সংকট দেখা দেয়। সাধারণ নলকূপে পানি না ওঠায় সমস্যার সমাধানে আমরা উন্নত প্রযুক্তির নলকূপ সরবরাহ করছি।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূগর্ভস্থ পানির অপরিকল্পিত ও অতিরিক্ত উত্তোলনের ফলেই প্রতিবছর পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে পানির সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।