Wednesday 08 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য না নেওয়ার অভিযোগ সাবেক সমন্বয়কের

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৮ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৪১

অভিযোগকারী শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সোহাগ।

রংপুর: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় নিজের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ না করার অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সোহাগ। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য উপেক্ষিত হলে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় ‘আবু সাঈদ কর্নার’-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তোলেন শাহরিয়ার সোহাগ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি বেরোবির অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং আবু সাঈদের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

লিখিত বক্তব্যে শাহরিয়ার সোহাগ বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ নিহত হন। ঘটনার পর তার বড় ভাই রমজান আলী বাদী হয়ে রংপুর আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। শাহরিয়ার সোহাগ নিজে এই মামলার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী। তিনি আন্দোলনের শুরু থেকে আবু সাঈদের শহিদ হওয়ার মুহূর্ত পর্যন্ত তার পাশে ছিলেন এবং তদন্তকারী সংস্থাকে সহযোগিতা করেছেন।

তিনি জানান, প্রথমে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলার তদন্ত করে। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করা হয়। ২৭ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে সাক্ষ্য দিতে ডাকা হয়। সেখানে গিয়ে তিনি সাক্ষীদের রেকর্ড বইয়ে নিজের নামে একটি খসড়া সাক্ষ্য দেখতে পান, যা তার প্রকৃত বক্তব্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। এ নিয়ে আপত্তি জানালে সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়। পরে তাকে আবার ডাকা হবে বলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ডাক আসেনি।

শাহরিয়ার সোহাগ বলেন, “আমি এখনও সাক্ষ্য দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ট্রাইব্যুনাল থেকে ডাকলেই উপস্থিত হব। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য উপেক্ষা করলে বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।” তিনি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিচার নিশ্চিত করতে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, আবু সাঈদ হত্যা মামলাটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচারাধীন। মামলায় সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব এরইমধ্যে শেষ হয়েছে এবং যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর আদালত আগামী ৯ এপ্রিল ২০২৬ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন।

আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ড জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানকে ব্যাপকভাবে ত্বরান্বিত করেছিল। তার মৃত্যু দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং শেখ হাসিনা সরকারের পতনের অন্যতম অনুঘটক হিসেবে বিবেচিত হয়।

এদিকে শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সোহাগের এই অভিযোগে বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শাহরিয়ার সোহাগ স্পষ্ট করে বলেন, সঠিক সাক্ষ্য গ্রহণ না করলে শহিদ আবু সাঈদসহ জুলাইয়ের সব শহিদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর