Monday 06 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কক্সবাজারে ঢেউয়ের পিঠে নারী-পুরুষ সার্ফারদের স্বপ্নযাত্রা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:২৬ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৪৫

সার্ফবোর্ড হাতে স্বপ্নবাজ সার্ফাররা।

কক্সবাজার: আকাশ যেখানে নুয়ে পড়ে লোনা জলের আলিঙ্গনে, সেই উত্তাল সমুদ্রেই গড়ে উঠছে নতুন এক প্রজন্মের সাহসী গল্প। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে স্বপ্ন বুনছেন একদল তরুণ-তরুণী। গর্জনশীল সাগর এখানে ভয় নয়, বরং রোমাঞ্চ আর সম্ভাবনার প্রতীক।

এই উপকূলের ছেলেমেয়েরা কেবল বালুচরের বাসিন্দা নন; তারা ঢেউয়ের সঙ্গে স্বপ্ন আঁকা একেকজন শিল্পী। লোনা জলের ঝাপটা আর বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দে তারা খুঁজে পান জীবনের স্পন্দন। এখানে নারী-পুরুষের বিভাজন মুছে গিয়ে সবাই মিলে জয় করার চেষ্টা করেন উত্তাল সমুদ্রকে।

তবে সার্ফিংয়ে নারীদের পথচলা সহজ ছিল না। পাহাড়সমান ঢেউয়ের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল সামাজিক বাধা। পরিবার ও সমাজের ‘না’ শব্দ পেরিয়ে প্রতিটি ধাপে এগিয়ে যেতে হয়েছে তাদের। তবু থেমে থাকেনি স্বপ্ন।

বিজ্ঞাপন

কক্সবাজারের নারী সার্ফার আনজুমান আক্তার জানান, শুরুতে পরিবার থেকে নানা চাপ সহ্য ও সমাজের কটূক্তিও শুনতে হয়েছে যেন তিনি এই খেলায় অংশ না নেন। কিন্তু সেই সব উপেক্ষা করে নিজের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন তিনি।

আরেক নারী সার্ফার ফাতেমা আক্তার বলেন, সার্ফিং জগতে আসতে গিয়ে তাকেও অনেক কটূক্তির মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু কেউই তার অদম্য যাত্রা থামাতে পারেনি। তার মতে, এখন ছেলেদের পাশাপাশি নারীরাও সমানভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। নারীরা ঘরে বন্দী না থেকে খেলাধুলায় অংশ নিলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বড় সাফল্য আসতে পারে বলেও মত জানান তিনি।

এদিকে সার্ফিং এখন আর কেবল শখের খেলাতে সীমাবদ্ধ নেই; অনেকের কাছে এটি পেশার সম্ভাবনাও তৈরি করছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগ সার্ফারদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে কক্সবাজারের লাবনী পয়েন্টে অষ্টম জাতীয় সার্ফিং প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি জানান, কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে স্পোর্টস ট্যুরিজম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সমুদ্রকেন্দ্রিক ক্রীড়ার বিকাশ ঘটাতে পারলে পর্যটন খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এবারের প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৯ জন নারীসহ মোট ৭০ জন সার্ফার অংশ নিয়েছেন। এরমধ্যে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন কক্সবাজারের সার্ফাররা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত এ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজন ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকলে সার্ফিংয়ের প্রসার ঘটবে এবং দেশের স্পোর্টস ট্যুরিজম খাতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।