যশোর: যশোর সদর উপজেলার হালশা গ্রামে এক রাতে আটটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন বুকভরা বাওড় সংলগ্ন মাঠের প্রায় দেড় শতাধিক কৃষক। ধানের শীষ আসার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ দিতে না পারায় ৫০০-৬০০ বিঘা জমির বোরো আবাদ নিয়ে বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিন হালসা গ্রামে গিয়ে এসব তথ্য জানা যায়।
দেখা গেছে, বাওড়পাড়ে বসে আছেন কয়েকজন কৃষক এবং স্যালো পাম্পচালক। পাম্পচালক ওলিয়ার রহমান জানান, ২৯ মার্চ ভোরে তিনি বাওড় পাড়ে স্থাপন করা মটর চালু করতে যান। তখন মটর চালু না হওয়ায় দেখতে পান বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ট্রান্সফরমার নেই। এরপর খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন আরও দুটি মটর চলছে না। পরে জানতে পারেন মোট আটটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে গেছে।
তিনি বিষয়টি ওই অঞ্চলের অন্যান্য কৃষকদের জানান। তারা দেখেন ট্রান্সফরমারের উপরের অংশ খোলা মাঠে পড়ে আছে। ভেতরে তামার কয়েল নাই। বিষয়টি তারা কোতোয়ালি থানা পুলিশকে অবহিত করে জিডি করেন। কৃষি অফিসেও সংবাদ পাঠান। এরপর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতেও যোগাযোগ করেন।
কৃষক মোর্শেদ আলী জানান, স্যালো মেশিনের সাহায্যে বাওড় থেকে পানি উঠিয়ে তারা মাঠে সেচ দেন। গ্রামের হযরত আলীর দুইটা মটর এবং হালসা বুকভরা (পশ্চিমাংশ) সমবায় সমিতি নামে আরও একটি মটর স্থাপন করা হয়েছে। ২৮ মার্চ দিবাগত রাতে অজ্ঞাত চোর চক্র হযরত আলীর মটর সংযোগের পাঁচটি এবং সমিতির মটর সংযোগের তিনটি মোট আটটি ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে গেছে। এই তিনটি মটর থেকে সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ বিঘা জমির ফসলে সেচ দেওয়া হতো। গত চারদিন ধরে সেচ বন্ধ রয়েছে। মাঠে পানি নেই। অথচ সবেমাত্র ধানের শীষ আসা শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে ধানের মাঠে প্রচুর সেচ দরকার। কিন্তু বিদ্যুতের অভাবে সেচ দিতে পারছে না কৃষক। অতি শিগগিরই সেচ দিতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন এ অঞ্চলের কৃষক।
বুধবার দুপুরে মাঠ পরিদর্শনে আসেন যশোর সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি অফিসার জহিরুল ইসলাম ও বিল্লাল হোসেন। তারা জানান, মাঠে এই মুহূর্তে পানির খুবই প্রয়োজন। মাঠে পানি না থাকলে ধান চিটা হয়ে যাবে। বাওড় থেকে সেচ মাঠে দিতে না পারলে মাঠের ফসল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
হালসা বুকভরা বাওড় সমবায় সমিতির সদস্য কৃষক নাসির উদ্দিন বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে ট্রান্সফরমারের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছিল। সেখান থেকে বলা হয়েছে ট্রান্সফরমার কিনে দিলে তারা সংযোগ স্থাপন করে দিতে পারবেন। প্রতিটি ট্রান্সফরমারে খরচ হবে ৪৫ থেকে ৪৬ হাজার টাকা। অন্যান্য খরচ দিয়ে ৫০ হাজার টাকা। আটটি ট্রান্সফারমার কিনতে খরচ হবে ৪ লাখ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ টাকা দেওয়া সম্ভব না।
তিনি আরও বলেন, বাধ্য হয়ে যদি ট্রান্সফরমার কিনতে হয় তাহলে কৃষককে ঋণ নিতে হবে। এখনই ঋণ পাওয়াও সম্ভব না। ফলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে চলেছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা। তারা বিষয়টি দেখবার জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘প্রতিটি ট্রান্সফরমারের জন্য ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। যাদের প্রয়োজন তারা কিনে দিলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সেটি স্থাপন করে দিতে পারবে।’ আর সরকারিভাবে যদি কোনো উৎস পাওয়া যায় সে চেষ্টাও করতে হবে বলে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন।