কুমিল্লা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে চারটি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
বুধবার (১ এপ্রিল) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত দাউদকান্দি, নিমসার, চান্দিনা ও মিঞাবাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোরে দাউদকান্দি উপজেলার কানড়া এলাকায় অজ্ঞাত একটি দ্রুতগতির গাড়ির চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহতরা হলেন—সরকারপুর গ্রামের মৃত লতু মিয়ার ছেলে বারেক (৪২) এবং মো. নূর ইসলামের ছেলে মোস্তফা (৪০)। তারা দুজনই অটোরিকশা চালক ছিলেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নবীর হোসেন (৩৮), কাওসার (৪০), ইসমাইল (৩৭) ও সাগর মিয়া (৩৫)। তাদের কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অফিসার ইনচার্জ) মো. ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, মতলবের বেলতলী এলাকার একটি মেলা থেকে ফেরার পথে অটোরিকশাটি মহাসড়ক পার হওয়ার সময় উল্টোপথে উঠে পড়ে। এ সময় দ্রুতগতির একটি গাড়ি অটোরিকশাটিকে চাপা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, ভোররাতের দিকে কুমিল্লার নিমসার বাজার সংলগ্ন ইউটার্নে কাভার্ডভ্যান ও ট্রাকের সংঘর্ষে দুই চালক নিহত হন। নিহতরা হলেন—নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার লালপুর গ্রামের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মইন (২৭) এবং মেহেরপুর সদর উপজেলার কেশবপুর গ্রামের মো. সোহেল রানা (৩৫)। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অফিসার ইনচার্জ) আব্দুল মমিন জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে, সকাল ১১টার দিকে চান্দিনা উপজেলার কাঠের পুল এলাকায় সড়ক পারাপারের সময় লরিচাপায় নিহত হয় এক স্কুলছাত্র। নিহত ইবনে তাইম রাড়িরচর এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে এবং বড় গোবিন্দপুর আলী মিয়া ভূইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ জানায়, কোচিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইউটার্নে রাস্তা পার হওয়ার সময় চট্টগ্রামগামী একটি লরি তাকে চাপা দেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর এলাকাবাসী লরিটি আটক করে।
এছাড়াও, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিঞাবাজার এলাকায় অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় নিহত হন কাভার্ডভ্যান চালক ওমর ফারুক।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, তার গাড়িটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি সড়কে দাঁড়িয়ে অন্য যানবাহনকে সতর্ক করার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় একটি অজ্ঞাত গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মহাসড়কে একের পর এক এসব দুর্ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইউটার্ন ও অনিয়ন্ত্রিত পারাপার, অতিরিক্ত গতি এবং ট্রাফিক নিয়ম না মানাকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।