রংপুর: রংপুর জেলায় জ্বালানি তেলের সংকট এখনো কাটেনি। জেলা প্রশাসন হেলমেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল না দেওয়ার নির্দেশ দিলেও মাঠপর্যায়ে তা পুরোপুরি মানা হচ্ছে না। ফলে মোটরসাইকেল চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জ্বালানি বিপণন স্বাভাবিক রাখতে জেলার ৮৫টি পাম্পে ৮৫ জন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু দীর্ঘ লাইন ও সংকটের চিত্রে তেমন পরিবর্তন আসেনি।
সোমবার (৩০ মার্চ) ও মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল থেকে রংপুর নগরী ও হারাগাছসহ বিভিন্ন এলাকার পাম্পগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শত শত মোটরসাইকেল ও যানবাহন দীর্ঘ লাইন ধরে অপেক্ষা করছে। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। নগরীর উত্তম হাসনাবাজার এলাকার বাসিন্দা আদনান আলী প্রতিদিন মোটরসাইকেলে ১২-১৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শহরে কর্মস্থলে যান। তিনি জানান, সকাল ৮টায় একটি ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর তেল পেয়েছেন।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আব্দুর রহমানের অভিজ্ঞতা আরও কষ্টের। তিনি বলেন, “তেল নিতে গিয়ে দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাইনি। বাধ্য হয়ে রিকশা ও অটোরিকশায় অফিসের কাজ সারতে হয়েছে। এভাবে প্রতিদিন সময় ও অর্থ নষ্ট হচ্ছে।”

তেলের অভাবে পাম্প বন্ধ।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রংপুরে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। প্রতিটি চালক তেল সংগ্রহে গড়ে এক ঘণ্টা সময় নষ্ট করলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার কর্মঘণ্টা অপচয় হচ্ছে।
পাম্প মালিক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ সেই অনুপাতে বাড়ছে না। মেঘনা ডিপোর ইনচার্জ জাকির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, “আগে পাম্পগুলো সপ্তাহে দু’বার পেট্রোল-অকটেন নিত। এখন প্রতিদিনই চাহিদা আসছে, কিন্তু সেই অনুপাতে সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”
জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান জানান, জ্বালানি বিপণন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলার ৮৫টি পাম্পে ৮৫ জন কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা প্রতিদিন তেল বিক্রির কার্যক্রম তদারকি করবেন। তবে ভুক্তভোগীরা বলছেন, ট্যাগ অফিসার নিয়োগের পরও লাইন কমেনি এবং অনেক পাম্পে তেলের সংকট রয়েছে।

সম্প্রতি রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ট্যাংকলরি শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কারণে সরবরাহ আরও ব্যাহত হয়। নীলফামারীতে তেল চুরির অভিযোগে তিন শ্রমিকের কারাদণ্ড ও জরিমানার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়। পরে কর্মবিরতি প্রত্যাহার হলেও সংকটের প্রভাব এখনো রয়েছে।
এদিকে, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী হেলমেট, লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল না দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক পাম্পে তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ চালকরা ক্ষুব্ধ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দ্রুত সরবরাহ বাড়ানো, ডিপো থেকে নিয়মিত তেল উত্তোলন নিশ্চিত করা এবং ট্যাগ অফিসারদের কার্যকর তদারকি না হলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও কর্মক্ষেত্র যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।