রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ‘সৌহাদ্য পরিবহন’ নামের যাত্রীবাহী একটি বাস উলটে নদীতে পড়ে গেছে। এঘটনায় ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার পর ১১ জন যাত্রী সাঁতরে পারে উঠতে পেরেছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পল্টুন এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী-নৌ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসটিতে ৪৫ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নদীতে পড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। নিখোঁজদের স্বজনরা ফেরি ঘাট এলাকার আহাজারি করছেন।
ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা এসে পৌঁছালেও এখনো উদ্ধার অভিযান শুরু করতে পারেনি। এতে নিখোঁজদের স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথি দাসসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন।
বাসটির যাত্রী আবদুল আজিজুল জানান, তিনি সাঁতরে প্রাণে বাঁচতে পারলেও তার স্ত্রী ও শিশুসন্তান এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাস ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে গেছে। পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকে আমাদের ডুবুরি দল এসেছে। তারা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. এস.এম. মাসুদ জানান, ২জন নারীর মরদেহ উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রাখা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
এদিকে, ঢাকার ফায়ার সার্ভিস সদর দফতর থেকেও অতিরিক্ত ডুবুরি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।