Friday 27 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ভোলায় টিউবওয়েল চাপলেই বের হচ্ছে গ্যাস!

ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্ট
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৫০

ভোলা: ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নে একটি বাড়িতে স্থাপিত স্যালো টিউবওয়েল থেকে পানি নয়, বরং গ্যাসের মতো দাহ্য পদার্থ বের হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। টিউবওয়েল চাপ দিয়ে আগুন ধরালে তা জ্বলে ওঠার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিনই ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা—কারও মতে এটি ‘পকেট গ্যাস’, আবার কেউ সম্ভাব্য গ্যাসক্ষেত্রের ইঙ্গিত দেখছেন।

ঘটনাটি ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তুলাতুলি বাজার সংলগ্ন শহররক্ষা বেড়িবাঁধের ভেতরে জেলে জেবল হক মাঝির বাড়িতে। গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রায় ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে বাড়ির উঠানে একটি স্যালো টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

ঠিকাদারের শ্রমিকরা প্রায় ৬০ ফুট গভীর পর্যন্ত প্লাস্টিক পাইপ বসিয়ে পানি তোলার চেষ্টা করলে পানি না উঠে পাইপের ভেতর থেকে বুদবুদ শব্দ শোনা যায়। সন্দেহবশত টিউবওয়েলের মুখে আগুন ধরালে তা সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে ওঠে। পরবর্তীতে টিউবওয়েল চাপা অবস্থায় একাধিকবার আগুন দিলে প্রতিবারই আগুন জ্বলতে দেখা যায়।

ঘটনার সময় বাড়ির মালিক জেবল হক মাঝি ও তার ছেলেরা নদীতে মাছ ধরতে ছিলেন। পরে কথা হয় তার পুত্রবধূ রাবেয়া বেগমের সঙ্গে।

তিনি জানান, ‘পানি না উঠায় শ্রমিকদের সন্দেহ হয়। তারা গ্যাসলাইট দিয়ে পরীক্ষা করলে আগুন জ্বলে ওঠে। এরপর থেকেই মানুষজন আসছে দেখতে। আমরা বুঝি না এটা কী—পকেট গ্যাস নাকি অন্য কিছু। সরকার পরীক্ষা করে দেখুক।’

ঘটনার পর থেকেই দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ফজলে রাব্বি, ছগির মিয়া ও সাইফুল বলেন, ‘আগুন জ্বলতে দেখেছি। ভোলায় আগেও গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। তাই এখানে গ্যাসের খনি থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত পরীক্ষা করে।’

তবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে আগুন জ্বালিয়ে পরীক্ষা করায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। দ্রুতই বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)-কে অবহিত করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময় মাটির নিচে সীমিত আকারে পকেট গ্যাস জমে থাকতে পারে। বাস্তবে বড় গ্যাসক্ষেত্র না-ও থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর