কক্সবাজার: সমুদ্রসৈকতের দরিয়া নগর পয়েন্টের উন্মুক্ত সৈকত থেকে কাছিমের ১২০টি ডিম উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন এক পরিবেশকর্মী।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সৈকতে হাঁটার সময় ডিমগুলো দেখতে পান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে সৈকতে হাঁটতে গিয়ে দরিয়া নগর এলাকার পরিবেশকর্মী মোহাম্মদ ইউনুস বালুচরে কাছিমের ডিম দেখতে পান। পরে তিনি সেগুলো সতর্কতার সঙ্গে সংগ্রহ করে বন বিভাগকে খবর দেন। পরে বন বিভাগের এক কর্মীর কাছে উদ্ধার করা ডিমগুলো হস্তান্তর করা হয়।
মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, আগে দরিয়া নগর এলাকায় অনেক বেশি কাছিম ডিম পাড়তে আসত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সৈকতে মানুষের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় কাছিম আগের মতো এই অংশে কম আসে।
তিনি জানান, স্থানীয়দের বিভিন্নভাবে সচেতন করার ফলে এখন আর কেউ কাছিমের ডিম নষ্ট করে না। ডিম দেখতে পেলেই পরিবেশকর্মী বা বন বিভাগকে খবর দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতগুলোর একটি এবং এটি সামুদ্রিক কাছিমের প্রজননের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। তবে পর্যটকদের চাপ, আলো দূষণ ও উপকূলীয় কার্যক্রমের কারণে কাছিমের প্রজনন ক্ষেত্র হুমকির মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের সচেতনতা ও বন বিভাগের তৎপরতা কাছিম সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
বন বিভাগের কক্সবাজার সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিবুল হক বলেন, উদ্ধার করা ১২০টি ডিম নির্ধারিত সংরক্ষণস্থলে নেওয়া হয়েছে। সেখানে কৃত্রিমভাবে নিরাপদ পরিবেশে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা কাছিম সাগরে অবমুক্ত করা হবে।