সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরাসহ দেশের অনেক স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এ সময় এই জেলার শ্যামনগর উপজেলায় ভূমিকম্পে মাটির দেয়াল ধসে তিনজন আহত হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
আহতরা হলেন শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া এলাকার নুর আলী মোড়লের স্ত্রী ফয়জুন্নেছা (৭৫), ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের গুমানতলী এলাকার আমিনুর রহমানের ছেলে আরিফুল ইসলাম (১৮) এবং আটুলিয়া ইউনিয়নের হাওলভাঙ্গী এলাকার সোহেল হোসেনের স্ত্রী আঁখি আক্তার (২০)।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাকির হোসেন জানান, ভূমিকম্পে আহত হয়ে তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে বয়স্ক ফয়জুন্নেছা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে।
এদিকে, এই ভূমিকম্পে শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ও স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কোথাও মাটির ঘর আংশিক ধসে পড়েছে, আবার কোথাও ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফাটলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেয়াল, ছাদ ও পিলারসহ বিভিন্ন অংশ।
আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৫.৪। এটিকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে চিহ্নিত করেছে অধিদফতর।
উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাখালি এলাকার শফিকুল ইসলাম জানান, ভূমিকম্পে তার একমাত্র মাটির ঘরটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরের দেয়ালে ফাটল ও কিছু অংশ ধসে পড়ায় পরিবার নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন তিনি।
এ ছাড়াও, শ্যামনগর পৌরসভার নূর কম্পিউটার মার্কেটের পাশে অবস্থিত তালাবদ্ধ আওয়ামি লীগ অফিসের ভবনে ফাটল ধরেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। একই এলাকার পার্শ্ববর্তী আরও কয়েকটি ভবনেও ফাটল দেখা গেছে।
গাবুরা ইউনিয়নের হরিশখালি এলাকায় একটি মসজিদে ফাটল ধরার পাশাপাশি ভেতরের টাইলস খুলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আতঙ্কে ছিলেন নদীর তীরে বসবাসরত মানুষরাও। উপজেলার চুনকুড়ি নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা আকবর হোসেন বলেন, ‘ভূমিকম্পের সময় নদীর পানি অনেক ওপরে উঠে প্রচণ্ড ঢেউ তুলেছিল। তবে নদীতে ওই সময় ভাটা থাকায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আমরা নামাজের জন্য মসজিদে ছিলাম। এ সময় অনেকে ভীত হয়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে যায়। জীবনে এমন কম্পন আগে আর কখনো দেখিনি।’
আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাজারের অনেক ব্যবসায়ীও। কম্পনের সময় হুড়োহুড়ি করে সবাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে রাস্তায় বের হয়ে আসে।
শ্যামনগর পৌরসভা এলাকার নকিপুর বাজারের এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী পলাশ সাহা বলেন, ‘আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি। মনে করেছিলাম, কেউ ধাক্কা দিচ্ছে। পরে দেখি আমাদের মার্কেটের ভবন কাঁপছে। এরপর সবাই দৌড়ে বের হয়ে মার্কেটের সামনের রাস্তায় গিয়ে দাঁড়াই। তখন দেখি, আশপাশের দোকান ও মসজিদ থেকে মানুষ রাস্তায় বের হয়েছে।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক জানিয়েছেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’