Friday 27 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চকরিয়ায় ফের বাড়ছে গরু-মহিষ চুরি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:২৭

কক্সবাজার: কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় আবারও রাতের আঁধারে গরু-মহিষ চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় গৃহস্থ, কৃষক ও খামারিদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরেই সংঘবদ্ধ চোরচক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়ার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় সব এলাকাতেই অতীতে নিয়মিত গবাদিপশু চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা থানায় অভিযোগ দিলেও চুরি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে চিরিঙ্গা ইউনিয়নের চরণদ্বীপ এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি চিংড়িঘের এলাকা থেকে এক রাতেই ১৪টি মহিষ চুরি হয়। এর মধ্যে শফি আলমের ৯টি এবং একই এলাকার আব্দুর শুক্কুরের ৫টি মহিষ রয়েছে। একসঙ্গে এতগুলো মহিষ চুরির ঘটনায় পুরো এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি রাতে বরইতলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে খামারি নূরুল আজিম মানিকের ২টি, মহসিন রিমনের ৩টি এবং এনামুল হকের ২টি গরু সশস্ত্র চোরচক্র নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় প্রান্তিক খামারিরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনেক পরিবারের জীবিকার একমাত্র সম্বল ছিল গবাদিপশু। সেগুলো চুরি হয়ে যাওয়ায় কেউ কেউ কার্যত পথে বসেছেন। চুরি ঠেকাতে অনেক এলাকায় স্থানীয়রা রাত জেগে খামার ও গোয়ালঘর পাহারা দিলেও চোরচক্রকে ঠেকানো যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি সংঘবদ্ধ ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে গরু ও মহিষ চুরির সঙ্গে জড়িত। তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব থাকায় আইনের আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ‘গরু ও মহিষ চুরিসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ টিম কাজ করছে। চোরচক্র শনাক্ত ও গ্রেফতার পুলিশ সতর্ক রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চকরিয়ায় পুলিশের জনবল আরও বাড়ানো প্রয়োজন এবং চোরচক্র ভাঙতে স্থানীয়দেরও এগিয়ে আসতে হবে।

তবে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তি মো. ইয়াসিন বলেন, কার্যকর উদ্যোগ ছাড়া শুধু আশ্বাসে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না। তারা মনে করেন, অতীতের মতো আবারও গরু চুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তা কৃষক ও খামারিদের জন্য ভয়াবহ দুর্ভোগ ডেকে আনবে।

চকরিয়া-পেকুয়া এলাকা নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রতি দ্রুত ও কঠোর প্রশাসনিক নির্দেশনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, গবাদিপশু চুরি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে রাতের আঁধারে আতঙ্কে থাকা গৃহস্থ, কৃষক ও খামারিদের জীবনে আবারও স্বস্তি ফিরবে।

সারাবাংলা/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর