Friday 27 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সাতক্ষীরায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের অবৈধ স্ট্যান্ড

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫৫ | আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫৭

ছবি: সংগৃহীত।

সাতক্ষীরা: সরকারি নির্দেশনা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে গড়ে উঠেছে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের অবৈধ স্ট্যান্ড। এতে জরুরি সেবা ব্যাহত হওয়া, রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতাল চত্বরে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ৫-৯টি প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স অবস্থান করতে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, দালালচক্রের মাধ্যমে রোগী রেফার হলেই এসব প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এতে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকা সত্ত্বেও অনেক রোগীকে বেশি ভাড়ায় প্রাইভেট গাড়ি নিতে বাধ্য হতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, মুমূর্ষু রোগী নিয়ে জেলা শহর সাতক্ষীরা নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি টাকা দাবি করা হয়।

একাধিক ভুক্তভোগী জানান, রোগী নিয়ে বিপদের সময় দরকষাকষি করার সুযোগ থাকে না। সে সময় যে যা বলে তাই দিতে হয়।

স্থানীয় ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি সূত্র থেকে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতার ছত্রছায়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসব অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট পরিচালিত হয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ আত্মগোপনে থাকলেও তাদের মধ্যে কয়েকজনের এখনও এই সিন্ডিকেটে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে এই সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করতে এই মুহূর্তে রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা দলের কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম শোনা যাচ্ছে।

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে গড়ে ওঠা প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের অবৈধ স্ট্যান্ড সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে সেই নির্দেশ অমান্য করে পুনরায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে অ্যাম্বুলেন্স রাখা হচ্ছে।

সূত্রটি আরও জানায়, এর আগেও এ বিষয়ে আপত্তি তোলা হয়েছিল। পরে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে হাসপাতাল নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর কয়েকদিনের জন্য প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স রাখা বন্ধ ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নির্বাচনের পর থেকে আবারও চালকেরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে নিয়মিত অ্যাম্বুলেন্স রাখতে শুরু করেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ একাধিকবার মৌখিকভাবে নিষেধ করলেও তা মানা হচ্ছে না বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। তাদের মতে, হাসপাতালের ভেতরে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স অবস্থান করলে রোগীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং জরুরি সেবার ক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।

হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাইরের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এই স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করেন। আমরা তাদের কিছু বলতে পারিনা কারণ তারা প্রভাবশালী।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান বলেন, হাসপাতাল চত্বরে কোনো অবৈধ স্ট্যান্ডের অনুমতি নেই। আমরা একাধিকবার নিষেধ করলেও তারা শুনছে না। এমনকি আমাদের সিভিল সার্জন স্যার হাসপাতালের ভিতরে অ্যাম্বুলেন্স রাখতে নিষেধ গেলেও তারা মানছেন না। জোরপূর্বক তারা হাসপাতালে মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স রাখছে।

সাতক্ষীরা জেলার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাদের হাসপাতালের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স রাখার নিয়ম নেই। আমি ২২ ফেব্রুয়ারি হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে তাদেরকে হাসপাতালের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স রাখতে নিষেধ করে এসেছি। শুনেছি তারা সেটি মানছেন না। এখন বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন দেখবে।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে গড়ে ওঠা প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সে স্ট্যান্ডের দায়িত্বে থাকা চালক আনিসুর রহমান বলেন, হাসপাতালের টিএইচএ স্যার আমাদের বলছিল সিভিল সার্জন থেকে নিষেধ আছে তোমরা বাইরে রাখো। আমরা বাইরে রাখছিলাম। বাইরে রাখার পরে এমপি (গাজী নজরুল) স্যারের বলছিলাম স্যার আমরা দীর্ঘদিন এখানে (হাসপাতাল চত্বরে) থাকি সেক্ষেত্রে আমাদের যদি একটু সুব্যবস্থা হতো।

তিনি আরও বলেন, এমপি স্যার বলছে কে সমস্যা বের করছে। তখন আমরা বললাম অনেক অনেক কথা বলছে তা আমরা টিএইচএ স্যারকে বলছিলাম স্যার আমাদের বিরুদ্ধে যদি সুনির্দিষ্ট কোন অপরাধ প্রমাণ থাকে সেই ড্রাইভারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেন। আমাদের সবাইকে বের করে দিলে আমাদের কষ্ট হয়ে যাবে। তারপরও আমাদের বের করে দিয়েছিল। তারপর আমরা বাইরে থেকে চালাচ্ছিলাম। এরপর এমপি সাহেবকে বললাম এমপি সাহেব বললো ঠিক আছে তোমরা সেই ভাবে ভদ্রভাবে থাকো। যাও আমি বলে দিবানি।

তবে এবিষয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের নবনির্বাচিত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম জানান, তিনি কাউকে হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স রাখতে বলেননি। সংশ্লিষ্টরা তার কাছে দাবি জানালেও অভিযোগ থাকায় তদন্ত সাপেক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান। পরে আরএমও’র মাধ্যমে বিষয়টি জেনে তিনি কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট করেন যে, অ্যাম্বুলেন্স রাখার বিষয়ে তিনি কোনো নির্দেশ দেননি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর