Thursday 26 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সিলেট নগরীতে ছিনতাই আতঙ্ক, ডেঞ্জার জোন হাউজিং এস্টেট!

জুলফিকার তাজুল ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:৩৮ | আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:৪৪

সিলেটে প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাই। ছবি: সারাবাংলা

সিলেট: রাতে নয়, প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সিলেট নগরীতে। গত দেড় মাসে নগরীর আভিজাত এলাকা হাউজিং এস্টেট এলাকায় পরপর একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষোভের ঝড় উঠেছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে হাউজিং এস্টেট রোডে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরিহিত ৬ জনের ছিনতাইকারী দল একটি সিএনজি অটোরিকশার গতিরোধ করে। তারা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এক নারী যাত্রীর ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার ভিডিও দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চরম উদ্বেগ দেখা দেয়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ১২ জানুয়ারি সকালে একই এলাকার ৮ নম্বর লেনে রিকশা থামিয়ে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মানিব্যাগ ছিনতাই করা হয়। ভুক্তভোগী ওই নারী পশ্চিম পীর মহল্লার বাসিন্দা এবং নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত। কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হন। তার ব্যাগে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, নগদ ৮ হাজার ৭০০ টাকা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর ভাই নয়ন মিয়া সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে প্রায় দেড় মাস পার হলেও এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

নয়ন মিয়া বলেন, ‘প্রথমে ব্যাগ নিতে না পেরে ছুরি বের করে আমার বোনকে হত্যার হুমকি দেয় ছিনতাইকারী। সে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় কোনো প্রতিরোধ করতে পারেনি।’

ভুক্তভোগীরা জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছিনতাইকারীরা হেলমেট ও মাস্ক পরে নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলে আসে। রিকশা বা সিএনজির গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অথবা আঘাত করে মূল্যবান সামগ্রী লুট করে দ্রুত পালিয়ে যায়।

একই এলাকায় একাধিক ঘটনার পর নগরবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় ও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ওই এলাকার বাসিন্দা সাবেক কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, ‘প্রকাশ্য দিবালোকে এমন ঘটনা রহস্যজনক। ব্যাংকের সামনে ওঁৎপেতে থাকে ছিনতাইকারীদের একটি চক্র। কোনো গ্রাহক ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে বের হলে দ্রুত ছিনতাইকারী চক্র খবর পেয়ে যায়। তাদের প্রধান টার্গেট নারী যাত্রীরা।’ তিনি জানান, ঘটনার পরপরই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের সিসিটিভি ফুটেজ ও ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে যাচাই-বাছাই করা হলেও এখনো কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। এমনকি ওই ছিনতাইকারীরা কেউ পুলিশের তালিকায় পুরোনো অপরাধী নয়। ছিনতাইকারীদের শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।’

বিজ্ঞাপন

আরো

জুলফিকার তাজুল - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর