Thursday 26 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ
শরীয়তপুরে রিকশাচালককে কুপিয়ে আহতের ঘটনায় মামলা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্ট
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:০৭

আহত রিকশাচালক দুলাল সরদার।

শরীয়তপুর: জেলার নড়িয়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় দুলাল সরদার (৪৫) নামে রিকশাচালককের কুপিয়ে আহতের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত দুলাল উপজেলার কানারগাও এলাকার মৃত মিয়াচান সরদারের ছেলে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ৪ জনের নাম উল্লেখ করে শরীয়তপুর জেলা আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তিনি।

মামলার আসামিরা হলেন- নড়িয়া উপজেলার কানারগাও এলাকায় রাজ্জাক সরদারের ছেলে আ. রর সরদার (৪০), সুমন সরদার (৩৬), দেলোয়ার সরদার (৩০), মৃত-আব্দুল আলী সরদারের ছেলে রাজ্জাক সরদার (৬০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফতেজঙ্গপুর ইউনিয়নের কানারগাও এলাকার কীর্তিনাশা নদীর পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এ বিষয়ে নদী পাড়ের বাসিন্দা দুলাল সরদার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা বিভিন্ন সময় হুমকি দিতে থাকে। এনিয়ে গত শুক্রবার রিকশাচালক দুলাল সরদারকে মারধর করে অভিযুক্তরা।

বিজ্ঞাপন

ওইদিন বিকেলে দুলাল সরদারের স্ত্রী রুনা বেগম বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে নড়িয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয় আসামিরা। থানায় অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে গত রোববার রাতে বাজার থেকে বাড়ী ফেরার পথে দুলাল সরদার, ছেলে ও স্ত্রীর ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় অভিযুক্তরা। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দুলাল সরদারের মাথা ও কানে মারাত্মক জখম হয় পাশাপাশি ছেলে ওমর ফারুকের হাত ও মাথায় সহ স্ত্রী রুনা বেগম গুরুতর আহত হয়।

পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী রিকশা চালক দুলাল সরদার বাদী হয়ে শরীয়তপুরের আদালতে মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয় কবির হোসেন বলেন, অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি যারা একজন রিকশা চালককের ওপর এই সন্ত্রাসী হামলা করেছে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

ভুক্তভোগী রিকশাচালক দুলাল সরদার বলেন, আমার বাড়ী নদীর পাড়ে হওয়াতে একাধিকবার ভাঙ্গনের শিকার হয়েছি। এখানে নদী ভাঙ্গনের মূল কারণ অবৈধ বালু উত্তোলন। আমি ১ মাস ধরে তাদের নিষেধ করেছি বালু উত্তোলন করা যাবে না। তারা আমার কথা না শুনলে আমি বাধ্য হয়ে ইউএনও স্যারকে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে গত শুক্রবার মারধর করে। আমার স্ত্রী থানায় অভিযোগ দিলে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে রোববার রাতে বাজার থেকে বাড়ী ফেরার পথে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমি এই হামলার সঠিক বিচার দাবি করছি।

ভুক্তভোগী রিকশাচালক দুলাল সরদারের স্ত্রী রুনা বেগম বলেন, অসাধু ড্রেজার ব্যবসায়ীরা রাতের আধারে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে। এভাবে চলতে থাকলে কীর্তিনাশা নদীতে আবারও ভাঙন দেখা দিবে। সেবিষয়ে আমার স্বামী প্রতিবাদ করতে রাতে বাড়ি ফেরার পথে অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী রাজ্জাক সরদারের নেতৃত্বে আ. রর সরদার, সুমন সরদার, দেলোয়ার সরদার দলবল নিয়ে অতর্কিতভাবে আমার স্বামীর ওপর হামলা করেছে। আমি এই হামলার আগে যখন হুমকি দিয়েছে তখন আমি নড়ীয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করছি কিন্তু পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তখন পুলিশ ব্যবস্থা নিলে দ্বিতীয় বার এই ঘটনা ঘটতো না। আমরা উপায় না পেয়ে আজ আদালতে মামলা দায়ের করেছি। আমি ন্যায় বিচার চাই।

এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের বক্তব্যের জন্য বারবার চেষ্টা করেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি।

নড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। এর আগের ঘটনায় আমাদের এখানে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোববারের ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে জানানো হয়নি।’

সারাবাংলা/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর