কক্সবাজার: টেকনাফে একটি ট্রলারের জালে ধরা পড়েছে ১১০০টি লাল কোরাল মাছ। ঘাটে ভেড়ার পর মণপ্রতি ২৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় আনুমানিক ৩১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর এলাকায় মাছগুলো ধরা পড়ে। ট্রলারটির মালিক মোহাম্মদ মিজান ও হারুন।
ট্রলার মালিকদের দাবি, মাছগুলোর মোট ওজন প্রায় ১২০ মণ। রাত ১২টার দিকে ট্রলারটি টেকনাফ পৌরসভার কাইয়ুখ খালী ঘাটে পৌঁছালে ক্রেতাদের মধ্যে মাছের কেনার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। প্রথমে জেলেরা ৪৫ লাখ টাকা দাম হাঁকালেও পরে দরদাম করে মণপ্রতি ২৬ হাজার টাকায় বিক্রির বিষয়ে সমঝোতা হয়।
ট্রলারের মাঝি রহমত উল্লাহ জানান, আরাকান আর্মির ভয়ে সপ্তাহখানেক সাগরে যাওয়া হয়নি। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মাছ ধরতে গিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে জাল তোলার সময় বিপুল পরিমাণ লাল কোরাল ধরা পড়ে। প্রতিটি মাছের ওজন পাঁচ থেকে ছয় কেজির মধ্যে। ১৭ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে ট্রলারটি গভীর সাগরে গিয়েছিল বলে জানান মালিক মিজান।
মিজান বলেন, ‘জেলেদের অংশ হিসেবে ১০০টি মাছ রাখা হয়েছে। বাকি প্রায় এক হাজার মাছ বিক্রি করা হচ্ছে। মণপ্রতি ২৬ হাজার টাকা হিসেবে, প্রতি কেজি আনুমানিক ৬৫০ টাকায় দর ঠিক হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাগরে মাছের আকাল থাকায় এ চালানে জেলেদের ঘাটতি কিছুটা পুষিয়ে যাবে।’
মাছ ব্যবসায়ী রশিদ আহমেদ বলেন, বর্তমানে রমজান মাস থাকায় বাজারে সামুদ্রিক মাছের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে লাল কোরালের।
স্থানীয় জেলেরা জানান, লাল কোরাল সাধারণত গভীর সাগরে পাওয়া যায়। শীত মৌসুমে সেন্ট মার্টিন লাগোয়া সাগরে ঝাঁক বেঁধে চলাচল করে। পাথর ও প্রবালের কারণে সেখানে জাল ফেলা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেকেই বড়শি ব্যবহার করেন।
টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উমুল ফারা বেগম তাজকিরা বলেন, লাল কোরাল সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ মাছ। এটি ভেটকির প্রজাতিভুক্ত। বৈজ্ঞানিক নাম Lates calcarifer। এটি সর্বোচ্চ প্রায় ৯ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। এতে প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন ডি ও ওমেগা–৩ রয়েছে। যা হৃদ্স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য উপকারী।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ধরা পড়া মাছের একটি অংশ কক্সবাজারের বাজারে সরবরাহ করা হবে। আর বাকিটা পাঠানো হবে ঢাকায়।