কক্সবাজার: কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ক্যাম্প-১১ এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের শতাধিক দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে দোকানমালিকদের মাঝে। হঠাৎ পরিচালিত অভিযানে ছোট ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভেঙে দেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রোহিঙ্গাদের জন্য জায়গা নির্ধারণ করতে গিয়ে বহু স্থানীয় বাসিন্দা আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের অনেকের কৃষিজমিতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বসতি স্থাপিত হওয়ায় আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যায়। পরে জীবিকার তাগিদে কেউ কেউ ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় ক্ষুদ্র দোকান স্থাপন করে সংসার চালাচ্ছিল। এসব দোকানই ছিল তাদের আয়ের একমাত্র উৎস।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সম্প্রতি ক্যাম্প প্রশাসনের নির্দেশে ড্রেন ও রাস্তার উপরে অবস্থিত দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়। তবে তাদের দাবি, বিনা নোটিশে এমন পদক্ষেপ নেওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
দোকানমালিক রশিদ বলেন, ‘হঠাৎ করে এসে দোকান ভেঙে দেওয়া হলো। আগে জানালে আমরা নিজেরাই সরিয়ে নিতাম।’
তাদের আরও অভিযোগ, অতীতে ক্যাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কঠোরতা দেখা যায়নি। বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে স্থানীয়দের সঙ্গে কঠোর আচরণ করা হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারের কাছে সহযোগিতা চেয়ে আবেদন জানিয়েছে—যেন তারা পুনরায় জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পায়।
এ বিষয়ে ক্যাম্প-১১’র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিআইসি) মুনিবুর রহমান বলেন, ‘ড্রেন ও রাস্তার উপর অবৈধভাবে কিছু দোকান স্থাপন করা হয়েছিল, যা চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল। শুধুমাত্র যেসব দোকান ড্রেন ও রাস্তার ওপর ছিল, সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। কাউকে ব্যবসা বন্ধ করতে বলা হয়নি।’
তিনি আরও জানান, দোকানমালিকদের নির্ধারিত স্থানে গিয়ে ব্যবসা পরিচালনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ চলাচল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা বিঘ্নিত না হয়।
এদিকে স্থানীয়রা মনে করছেন, উচ্ছেদের আগে পর্যাপ্ত সময় ও বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত ছিল।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা যেমন জরুরি, তেমনি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা রক্ষা করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে উচ্ছেদকৃত দোকানমালিকরা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপে একটি স্থায়ী সমাধান আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছে তারা।