Monday 23 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রাজবাড়ীতে ৩৬টি বন্ধ দোকান খোলার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৪

বন্ধ দোকানের সামনে সংবাদ সম্মেলন।

রাজবাড়ী: রাজবাড়ী সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের রামনগর বাজারে ৩৬টি বন্ধ দোকান খুলে দেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রামনগর বাজারের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান সচিব সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন। এছাড়া দোকান ঘর বরাদ্দ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান সচিব।

সংবাদ সম্মেলনে ইউপি চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান সচিব বলেন, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সুলতানপুর ইউনিয়নের রামনগর বাজারে সরকারি খাস জমির ওপর ৩৬টি দোকানঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন ইউপি চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান সচিব। এজন্য তিনি বাজারের সকল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা তুলে বাজারে দোকান ঘর নির্মাণ করেন। নির্মাণ কাজ শেষে বাজারের প্রকৃত ব্যবসায়ীদের কাছে দোকান ঘর বুঝিয়ে দেই। কিন্তু স্বেচ্ছায় বাজারের উন্নয়নের জন্য যারা কিছু টাকা দান করেছিলেন তারা তাদের নামে দোকান ঘর বরাদ্দের জন্য আমাকে চাপ দিতে থাকে। আমি তাদের নামে দোকান বরাদ্দ না দিলে তারা আমার নামে মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এই রামনগর মার্কেট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, যারা মার্কেট নির্মাণে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছিল তাদেরকে দোকান বরাদ্দ দিতে হবে এমন কোন শর্ত ছিলো না। যারা টাকা দিয়েছিলো তাদের কয়েকজনের টাকা দিয়েও দিয়েছি। বাকিদের টাকা দিতে চাইলেও তারা টাকা ফেরত না নিয়ে উলটো তাদের নামে দোকান বরাদ্দের জন্য চাপ দিতে থাকে। গত ৪/৫ দিন ধরে মার্কেট বন্ধ থাকার কারণে এখানে যারা ব্যবসায়ী রয়েছে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই আমি ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি করছি দ্রুত মার্কেট চালু করে দেওয়া হোক। আমি যদি প্রকৃত অপরাধী হয়ে থাকি আমাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু আমার জন্য ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হোক এটা আমি চাই না।

সংবাদ সম্মেলনে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, বর্তমানে রমজান মাস চলছে। এই সময় ব্যাবসা-বাণিজ্য করে পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ উদ্‌যাপন করবো। আমরা টাকা দিয়ে দোকান ঘর বুঝে পেয়েছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসে দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন। আমরা বর্তমানে বিপদের মধ্যে রয়েছি।

মো. মনিরুজ্জামান নামে দোকান না পাওয়া ব্যবসায়ী বলেন, মার্কেট নির্মাণ শেষ হওয়ার পর দোকান বরাদ্দ চাইলে চেয়ারম্যান নানা অজুহাত দেখায়। এরপর চেয়ারম্যান ৩৬টি দোকান ঘনিষ্ঠজনদের বরাদ্দ দিয়েছেন। আমাদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ পরিশোধ করেনি। তিনি আমাদের সাথে প্রতারণা করেছেন। আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারে কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিরুপমা রায় বলেন, ওই জায়গা খাস খতিয়ানের জায়গা। প্রতি বছর ইজারা দেওয়া হয়। ওখানে যে স্থাপনাগুলো নির্মাণ করা হয়েছে সেগুলো অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে বেশ কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। আমরা দোকানগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। নিয়ম মেনে দোকানগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সারাবাংলা/এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর