Sunday 22 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

শরীয়তপুরে বালুবাহী বাল্কহেড থেকে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, নিরব নৌপুলিশ

ডিসট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫০

ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নৌরুটে দীর্ঘদিন যাবৎ বালুবাহী বাল্কহেড থেকে দিনের আলোয় প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছে চিহ্নিত কিছু জলদূস্যরা। বাল্কহেড থেকে জলদূস্যদের নিয়মিত চাঁদা নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

নৌযান আটকে চাঁদাবাজির একটি ভিডিও শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।

ভিডিওতে দেখা যায় বালু বোঝাই একটি বাল্কহেড নড়িয়া উপজেলা সুরেশ্বর পয়েন্টের মুলফৎগঞ্জ স্থানে পৌছালে ট্রলার নিয়ে ৮-১০ একটি চাঁদাবাজ চক্র এগিয়ে গিয়ে ওই বাল্কহেড থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছেন। পরে টাকা নিয়ে আবারও অন্য আরেকটি বাল্কহেডের দিকে এগিয়ে যায়। একাধিক ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি বাল্কহেড থেকে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকায় জোর করে আদায় করছেন জলদস্যুরা। সেই হিসেবে দেখা যায়, প্রতিদিন শতাধিক বালুবাহী বাল্কহেড থেকে প্রায় ৩-৫ লক্ষাধিক টাকা চাঁদাবাজি করছেন এই চক্রটি। কেউ টাকা দিতে না চাইলে তাদের নৌযান আটকে মারধরসহ নৌপুলিশে ধরিয়ে দিয়ে হয়রানি করায় চক্রটি।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ রয়েছে সুরেশ্বর নৌপুলিশের কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য সরাসরি এই চাঁদাবাজদের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

জলদূস্যরা ট্রলারে আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, চাপাতি, লাঠি ও বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র বহন করে। তবে মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে নৌ-ফাঁড়ি থাকলেও নদীতে চাঁদাবাজির বিষয় কিছুই জানেন না পুলিশ।

ঢাকা গাবতলী এলাকার বালু ব্যবসায়ী এবং বাল্কহেড এর মালিক আমির হোসেন বলেন, আমি একজন বৈধ বালু ব্যবসায়ী। আমি দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরকারী-বেসরকারী কাজে বালু সরবরাহ করে থাকি। কিন্ত কিছুদিন যাবৎ মুলফৎগঞ্জের এখানে প্রতিনিয়ত আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, চাপাতি, লাঠি ও বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নৌরুটে চলাচলরত বালুবাহী বাল্কহেড থেকে জোরপূর্বক চাঁদা নিয়ে থাকেন। চাহিদা মত চাঁদা দিতে অস্কীকার করলে নির্যাতন করে। টাকা না দিলে পুলিশ দিয়েও তারা হয়রানি করে। নৌপুলিশ সবকিছু জেনেও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না।

মনির নামের বালুবহনকারী জাহাজের এক কর্মচারী বলেন, ‘আমরা যমুনা থেকে বালু নিয়ে এসেছি, ঢাকায় যাব। দুপুরে মুলফৎগঞ্জ এলাকায় আসলে এখানকার কিছু লোক আমাদের কাছ থেকে ২০০০ টাকা করে চাঁদা নিচ্ছে। আমি দিতে চাই নি তারা আমাকে হুমকি দিবে বলে টাকা না দিলে মারধর করবে। আমাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা নিয়ে চলে গেছে। শুধু মুলফৎগঞ্জ নয় নরসিংহপুর,আন্দারমানিক, কলাবাগান, সিএনবি ঘাট ও ঢাকা জেলার দোহার এলাকায় নিয়মিত চাঁদা দিতে হয়। এই চাঁদাবাজির সাথে নৌপুলিশও জড়িত রয়েছে।

এবিষয়ে সুরেশ্বর নৌ-ফাঁড়ীর ইনচার্জ আব্দুল জলিল সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায় নি। একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। দুপুরে ফাঁড়ীতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায় নি।

বিজ্ঞাপন

পদত্যাগ করলেন ঢাবি উপাচার্য
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:২৬

আরো

সম্পর্কিত খবর