Saturday 21 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নেই স্থায়ী শহিদ মিনার
বাঁশ-কঞ্চির বেদিতে বুনো ফুলের শ্রদ্ধা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্ট
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:১০ | আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:১৬

বাঁশ-কঞ্চির মিনারে বাবুডাইং আলোর পাঠশালার একুশ উদযাপন। ছবি: সারাবাংলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: নেই স্থায়ী শহিদ মিনার, কিংবা মার্বেল পাথর বা ইট-সিমেন্টের কাঠামো। তবু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পিছিয়ে থাকেনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রত্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘বাবুডাইং আলোর পাঠশালা’। শিক্ষার্থীরা নিজেদের হাতে বাঁশ-কঞ্চি দিয়ে অস্থায়ী মিনার নির্মাণ করে বুনো ফুলে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে ভাষা শহিদদের স্মরণ করেছে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে চলে তাদের কর্মযজ্ঞ। বিদ্যালয়ের ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা নিজেরাই জঙ্গল থেকে বাঁশ কেটে এনে, কঞ্চি চেঁছে এবং কাদা-মাটি দিয়ে তৈরি করেছে মিনারের বেদি। শুধু মিনার তৈরিই নয়, সেই মিনারের গায়ে নিপুণ হাতে এঁকেছে আল্পনাও।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবের আমেজ। সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয় থেকে বের করা হয় একটি বর্ণাঢ্য প্রভাতফেরি বা শোভাযাত্রা। বরেন্দ্র অঞ্চলের আঁকাবাঁকা পথ ঘুরে শোভাযাত্রাটি পুনরায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এরপর শুরু হয় পুষ্পস্তবক অর্পণ। প্রথমে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর একে একে শিক্ষার্থীরা তাদের সংগৃহীত বুনো ফুল দিয়ে সাজিয়ে দেয় বাঁশ-কঞ্চির সেই মিনার।

শহরের নামি সব ফুলের দোকান থেকে কেনা দামি গোলাপ বা রজনিগন্ধা নয়, বরং পাশের বন-জঙ্গল থেকে কুড়িয়ে আনা বুনো ফুলের সুবাসেই আজ সুবাসিত ছিল বাবুডাইংয়ের এই অস্থায়ী মিনার।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুরমিরা হাসদা জানায়, ‘আমাদের স্কুলে স্থায়ী শহিদ মিনার নেই। তাই আমরা বন্ধুরা মিলে এটি বানিয়েছি। ভবিষ্যতে বড় মিনার চাই, তবে এটি বানিয়ে ফুল দিতে পেরেও আমাদের অনেক আনন্দ হচ্ছে।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলীউজ্জামান বলেন, ‘২০০৭ সাল থেকে আমরা নিয়মিতভাবে এখানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে আসছি। স্থায়ী মিনার না থাকলেও শিক্ষার্থীদের স্বতস্ফূর্ততা আমাদের মুগ্ধ করে। তারা নিজেরাই কঞ্চি কেটে মিনার তৈরি করে ও আলপনা আঁকার মধ্য দিয়ে ছোটবেলা থেকেই ভাষার প্রতি তাদের মমত্ববোধ তৈরি হচ্ছে।’

বাবুডাইং আলোর পাঠশালার সভাপতি শফিকুল আলম ভোঁতা বলেন, ‘শহরের চাকচিক্য এখানে নেই, কিন্তু ভালোবাসার কোনো কমতি নেই। এই শিক্ষার্থীরা শিখিয়ে দিচ্ছে যে, ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে কেবল একটি স্বচ্ছ হৃদয় আর একমুঠো বুনো ফুলই যথেষ্ট।’

বাবুডাইং আলোর পাঠশালার এই আয়োজন যেন মনে করিয়ে দেয়, একুশের চেতনা কেবল শহরের দামি সৌধের ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়। বরেন্দ্রর লাল মাটিতে নিজেদের হাতে গড়া এই অস্থায়ী মিনারে যে মমতা আর গভীর শ্রদ্ধাবোধ মিশে ছিল, তা যেকোনো দামি কাঠামোর চেয়েও উজ্জ্বল।

বিজ্ঞাপন

ফ্রেমের ভাষায় গর্ব ও আবেগের একুশ [ছবি]
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:১১

আরো

সম্পর্কিত খবর