যশোর: জেলার মনিরামপুরে নিষিদ্ধঘোষিত চরমপন্থী নেতা ও ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে অস্ত্র-গুলিসহ আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে রাজশাহীর তানোর উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটক দুজনের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
আটকরা হলেন- অভয়নগর উপজেলার বারান্দি পালবাড়ি এলাকার মাহমুদ হাসান হৃদয় (২৮) এবং বারান্দি পূর্বপাড়ার শামীম হোসাইন (৩১)। তাদের আদালতে সোপর্দ করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে আলোচিত এ মামলায় মোট চারজন আটক হলেন।
যশোর পুলিশ মিডিয়া সেলে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার জানান, নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগী বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির মনিরামপুর অঞ্চলের নেতা ছিলেন। অপরদিকে আটকরা পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য বলে দাবি পুলিশের। দুটি নিষিদ্ধঘোষিত চরমপন্থি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের দাবি, রানা প্রতাপ বৈরাগী প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, ঘের ও জমি দখলসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কপালিয়া বাজার এলাকায় ঝুমুর বিউটি পার্লারের পাশে অবস্থানকালে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর প্রথমে সাদ্দাম হোসেন নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজিব মোল্লাকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোর ডিবি পুলিশ মাহমুদ হাসান হৃদয় ও শামীম হোসাইনকে আটক করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার জানান, মামলার তদন্ত যশোর ডিবি পুলিশ করছে এবং অন্য জড়িতদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।