Friday 20 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পিরোজপুরে ৫ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই স্থায়ী শহিদ মিনার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৫৮ | আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:০১

পিরোজপুর: রাত পোহালেই ২১ ফেব্রুয়ারি—আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যখন দেশজুড়ে চলছে প্রস্তুতি, তখন পিরোজপুর জেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঁচ শতাধিক বিদ্যালয়ে নেই কোনো স্থায়ী শহিদ মিনার।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুরে রয়েছে ৯৯২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৮১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৭৪টি মাদরাসা ও ২৮টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঁচ শতাধিক প্রতিষ্ঠানে এখনো নির্মিত হয়নি স্থায়ী শহিদ মিনার। ফলে প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কিংবা নিজ উদ্যোগে কলাগাছ, কাপড় ও বাঁশের কঞ্চি দিয়ে অস্থায়ী শহিদ মিনার নির্মাণ করে দিবসটি পালন করে।

বিজ্ঞাপন

অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা মাটি দিয়ে বেদি তৈরি করে শ্রদ্ধা জানায়। শ্রদ্ধা নিবেদনের পরদিনই সেসব অস্থায়ী কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। শিক্ষাবিদদের মতে, এভাবে আনুষ্ঠানিকতা সারলেও কোমলমতি শিশুদের মনে ভাষা আন্দোলনের চেতনা স্থায়ীভাবে প্রোথিত হয় না। আবার যেসব প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার রয়েছে, সেগুলোর অনেকই পড়ে থাকে বছরের পর বছর অযত্ন-অবহেলায়।

পিরোজপুরের আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করি। আমাদের ইচ্ছে আছে স্কুলে শহিদ মিনার নির্মাণের। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে নিজ উদ্যোগে করতে পারিনি। সরকারি ব্যবস্থাপনায় শহিদ মিনার হলে ভালো হতো।’

১৬নম্বর মন্ডলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলি রায় বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানে কোনো শহিদ মিনার নেই। বাচ্চারা প্রতি বছর অনেক কষ্ট করে অস্থায়ী শহিদ মিনার বানায়। স্থায়ী শহিদ মিনার থাকলে তাদের এই কষ্ট করতে হতো না।’

৮৮নম্বর খামকাটা কৃষ্ণনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিতা দাস বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীরা মাটি ও কলাগাছ দিয়ে শহিদ মিনার বানিয়ে ফুল দেয়। একটি স্থায়ী শহিদ মিনার থাকলে ওরা আরও উৎসাহ নিয়ে দিবসটি পালন করতে পারত।’

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী আযিযী বলেন, ‘যেসব বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থায়ী শহিদ মিনার নির্মাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

প্রাইভেটকারে ২০ হাজার ইয়াবা, চালক আটক
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:১৩

আরো

সম্পর্কিত খবর