বগুড়া: বগুড়ায় ইফতারে অপরিহার্য হয়ে উঠা সাদা দই এবারও রয়েছে বিক্রির শীর্ষে। ইফতারে বাহারি পদের মধ্যে বগুড়ার মানুষের কাছে সাদা দই বা টক দই অন্যতম। ইফতারে নিয়মিত পদ হিসেবে এই দইয়ের কদর ঘরে ঘরে। ঐতিহ্য হিসেবে দইয়ের প্রচলন বগুড়ায় দীর্ঘকাল থেকে। রোজার দিনগুলোতে ইফতারসামগ্রীর সঙ্গে সাদা দইয়ের চাহিদা বেড়ে যায় প্রায় তিন গুণ। সারা দিন রোজা রাখার পর সাদা দই দিয়ে তৈরি ঘোল শরীরে শীতল আমেজ দিয়ে যায়। যে কারণে প্রতি বছর রমজান এলেই ইফতারে সাদা দই বিক্রির শীর্ষে। দ্রুত শরীর ঠান্ডা করে বলে এই দই দিনদিন ইফতারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জানা যায়, রমজান মাসে বগুড়ায় সাদা দই বা টক দইয়ের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। চাহিদামতো দই সরবরাহ করা যায় না। বগুড়ার বিভিন্ন দইয়ের দোকানে আকারভেদে সাদা দইয়ের হাড়ি বিক্রি করা হচ্ছে ৯০ টাকা থেকে ২৬০ টাকা পর্যন্ত। বগুড়া শহরের এশিয়া সুইট মিট ও দই ঘর, শ্যামলী হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট দইঘর, নবাববাড়ীর রুচিতা, কবি নজরুল ইসলাম সড়কের আকবরিয়া, রফাত দইঘর, দইবাজার, মিষ্টিমহল,মহরম আলী, শেরপুর দই ঘর, চিনিপাতাসহ অর্ধশত শো রুমে সাদা দই বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও শহরের ফুটপাতগুলোতে সাদা দই বিক্রি করা হচ্ছে।
সাদা দই-এর সঙ্গে ঠান্ডা পানি ব্যবহার করে ঘোল হিসেবে, শুধু দই প্লেটে করে পরিবেশন, দইয়ের সঙ্গে চিঁড়া, দইয়ের সঙ্গে খই ও মুড়ি, দই চিকেন রোস্ট, দই আর খাসির গোস্ত দিয়ে কোরমা তৈরিসহ বিভিন্ন ভাবে খাওয়া হয়।
শহরের সাতমাথা দই বিক্রেতা জুয়েল হাসান জানান, পবিত্র রমজানকে ঘিরে প্রতি বছর সাদা দইয়ের চাহিদা থাকে প্রচুর। তবে আগের চেয়ে দাম একটু বেশি। এখানে সাদা দই বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা ১৭০টাকা পর্যন্ত। এছাড়া অন্যান্য শো-রুমগুলোতে প্রতি বড়হাড়ি দই ২৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
ইফতার কিনতে আসা আমিনুর প্রামানিক জানান, রমজানে ইফতারের জন্য পরিবারের সবার পছন্দ সাদা দই বা টক দই। সারাদিন রোজা রাখার পর সাদা দই দিয়ে ইফতার করলে তৃপ্তি মেলে। যে কারণে সাদা দই কিনেছি।
এদিকে প্রথম রমজানে শহরের স্টেশন রোড, সাতমাথা, কাঁঠালতলা, নবাববাড়ি রোড, কলোনি, রাজাবাজার এলাকা, ফতেহ আলী বাজার মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে ইফতারসামগ্রী বিক্রির জন্য দোকান বসানো হয়েছে। সাধারণ মানের হোটেল রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে উচ্চমানের হোটেলগুলোতেও ইফতারসামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছে। রমজানের প্রথম রোজায় ইফতার কিনতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
ইফতারসামগ্রীর মধ্যে বিক্রি হচ্ছে ঝুড়ি, চিঁড়া, বাদাম, ডালভাজা, নিমকপাড়া, বুন্দিয়া, শাহি জিলাপি, রেশমি জিলাপি, বেগুনি, ডাল পিঁয়াজি, সবজি পিঁয়াজি, চিকেন গ্রিল, চিকেন তন্দুরি, চিকেন গার্লিক, চিকেন ফ্রাই, চিকেন কাটলেট, চিকেন চপ, চিকেন বল, বিফ রোল, পিফ ব্রেড পাকুড়া, মিল্ক ব্রেড পাকুড়া, টিকা কাবাব, জালি কাবাব, সবজি পাকুড়া, ডিম চপ, আলু চপসহ আরও সুস্বাদু খাবার। এছাড়া খাসি বা গরুর হালিম বগুড়ার ইফতারসামগ্রীতে দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।